ধর্ষণের অভিযোগে কয়েকদিন আগে গ্রেপ্তার হন ভারতের আইপিএল তারকা অভিষেক পোড়েল। আজ দেশটির আদালত এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটারের জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
কর্ণাটকের এক মেডিকেল ছাত্রীর করা ধর্ষণ মামলার প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিষেক পোড়েল ঘরোয়া ক্রিকেটে বেঙ্গল এবং আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলেন, এছাড়াও তিনি ভারতের ‘এ’ দলের হয়েও খেলেছেন।
অভিযোগকারী ছাত্রীর দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিষেক তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে তিন বছর তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল, তবে দেড় বছর আগে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।কেবল ধর্ষণের অভিযোগই নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, হুমকি এবং ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিওর অপব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে।
হুগলি (গ্রামীণ) পুলিশ সুপার কুনওয়ার ভূষণ সিং হিন্দুস্তান টাইমসকে জানিয়েছেন, ‘তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং তাকে গ্রেফতারের জন্য আদালতের নির্দেশ ছিল।গত রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আজ তাকে আদালতে হাজির করা হবে।’
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৯ ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় অভিষেক বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে গত ১০-১১ আগস্ট হুগলি থেকে অভিষেক পোড়েলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে আদালত তার মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপসহ সকল ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছিল, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই মামলায় ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত ১১ আগস্ট তাকে প্রথমবার আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয় এবং তাকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানো হয়। এরপর ১৪ আগস্ট পুনরায় শুনানি অনুষ্ঠিত হলে আদালত তাকে জামিন না দিয়ে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর আদেশ দেয়। হাইকোর্টের শুনানির সময় জানা গিয়েছিল যে, এই মামলার দ্বিতীয় আসামি—যিনি অভিষেকের একজন সহযোগী—তাকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এখন পর্যন্ত কোনো পর্যায়েই তাকে জামিন দেওয়া হয়নি, যার অর্থ হলো আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর আদালত পুনরায় মামলাটি গ্রহণ না করা পর্যন্ত অভিষেক বিচার বিভাগীয় হেফাজতেই থাকবেন।
ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো জব্দ করার বিষয়ে আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, তদন্তকারীরা তথ্যপ্রমাণের শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে ডিজিটাল নথিপত্র পরীক্ষা করছেন। আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং এই পর্যায়ে মামলার চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।