ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। তার বাঁ পায়ের জাদুতে মুগ্ধ পুরো বিশ্ব।তবে রোজারিওর এক সাধারণ বালক থেকে আজকের এই মহাতারকা হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা যার, তিনি হোর্হে মেসি। লিওনেল মেসির কাছে তিনি শুধু একজন জন্মদাতাই নন, ব্যক্তিজীবন ও ফুটবল ক্যারিয়ার দুই জায়গাতেই তিনি ছিলেন তার সবচেয়ে বড় ‘রোল মডেল’ বা আদর্শ।
১৯৫৮ সালে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে জন্ম নেওয়া হোর্হে একসময় কারখানায় কাজ করতেন। চার সন্তানের বিশাল সংসার চালাতে তাঁকে করতে হয়েছে হাড়ভাঙা খাটুনি।বাবার এই জীবনসংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখেছেন ছোট্ট লিওনেল। ছেলের ফুটবল প্রতিভা আর উন্নত ভবিষ্যতের খোঁজে একপর্যায়ে নিজের শেকড় ছেড়ে স্পেনের বার্সেলোনায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।এমনকি ছেলের স্বপ্নের কথা ভেবে পরিবারের অন্যদের থেকে কিছুদিন আলাদাও থাকতে হয়েছিল তাকে। বাবার এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ মেসিকে শিখিয়েছে কীভাবে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়।
মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি যেমন সবসময় পরিবারের পাশে ছিলেন, তেমনি হোর্হে মেসি ছিলেন লিওনেলের মানসিক ও পেশাগত শক্তির সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা। শৈশব থেকে শুরু করে বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে বাবাকেই অনুসরণ করেছেন মেসি। মজার ব্যাপার হলো, হোর্হে ছিলেন স্থানীয় ক্লাব ‘নিওয়েলস ওল্ড বয়েজ’-এর পাঁড় ভক্ত। বাবার হাত ধরেই এই ক্লাবে মেসির ফুটবলের হাতেখড়ি। আজও মেসি নিজেকে এই ক্লাবেরই সমর্থক মনে করেন।
পাদপ্রদীপের আলোর আড়ালে থাকা এক আদর্শ
ছেলের এত বড় সাফল্য, বিশ্বজোড়া তারকাখ্যাতি তবুও হোর্হে মেসি সবসময় নিজেকে ক্যামেরার আড়ালে রাখতেই পছন্দ করতেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও নিভৃতচারী। ব্যালন ডি’অর জয়ের মতো বড় বড় অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান কিংবা শিরোপা উদযাপনের সময়ও তিনি স্বেচ্ছায় গণমাধ্যমের আলোর বাইরে থেকেছেন। বাবার এই বিনয় আর মাটির কাছাকাছি থাকার স্বভাবই মেসিকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে।
মেসির কাছে তাই হোর্হে মেসি শুধু একজন বাবাই নন, তিনি এমন এক আদর্শ, যাঁর দেখানো পথ ধরেই বিশ্ব ফুটবলের চূড়ায় পৌঁছেছেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর।