জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সবার অংশগ্রহণে একটি কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদ পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের যেকোনো সমস্যা জাতীয় সংসদে এনে তার স্থায়ী সমাধান করতে চায় সরকার।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি’উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার প্রমুখ।
দেশ নতুন করে স্বাধীন হয়নি উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, বিদ্যমান সংবিধানের ফান্ডামেন্টাল বা মৌলিক বিষয়গুলো রেখেই প্রয়োজনে তা সংশোধন করা হবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।এতে বিএনপি থেকে সাতজন ও বিরোধী দল থেকে পাঁচজন সদস্য রাখা হয়েছে।
আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনগণের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি রাজনৈতিক সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং আগামী পাঁচ বছর দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাবে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনে দেশ থেকে দুর্ভিক্ষ ও বেকারত্ব জাদুঘরে পাঠানো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আগামী ছয় মাসে দেশের পরিবর্তন আসবে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ দেশের বেকারত্ব ও দুর্ভিক্ষকে জাদুঘরে পাঠানো হবে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং মিডিয়ার যেকোনো সমস্যার সমাধানেও কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় মানুষের হাহাকার, না খেয়ে থাকা এবং শিশুদের কষ্ট আমরা নিজ চোখে দেখেছি। মানুষের সেই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ বন্ধ করার জন্য সে সময় বাকশাল এবং রক্ষীবাহিনী গঠন করা হয়েছিল, যাদের বিচারবহির্ভূত ক্ষমতা ছিল। সে সময় দেশে বহু রাজনৈতিক কর্মী নিহত হন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এর ফলে মানুষের কথা বলার অধিকার, সংবাদপত্র এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে চরম সংকট তৈরি করা হয়েছিল। সেই অন্ধকার সময়ে দেশের মানুষের মুক্তির দিশারী হয়ে এসেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
চিফ হুইপ বলেন, মাত্র তিন বছরে এই দারিদ্র্যপীড়িত দেশকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করে বিদেশে খাদ্য রপ্তানির পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। নিজ হাতে খাল কেটে তিনি বিপ্লব শুরু করেছিলেন এবং সমবায় ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়েছিলেন। সে সময় জাতীয়করণকৃত কলকারখানাগুলোকে ডি-ন্যাশনালাইজড করে সাধারণ মানুষকে উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আজ বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের মানুষের সেই মৌলিক অধিকার, স্বপ্ন এবং বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ চলছে। বিগত সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে এবং মানুষের স্বপ্ন ও আশা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। গুণ্ডামি ও অপরাধকে এক ধরনের রোল মডেল বানিয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে গত সাড়ে পাঁচ মাসে পরিস্থিতির অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। দেশের মানুষ আজ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে এবং ভয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছে।
সরকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। দরিদ্র ও অসহায় মা-বোনদের সহায়তার জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করে সরকারিভাবে উপবৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কৃষকদের জন্য সহজলভ্য সার, বীজ ও কীটনাশক নিশ্চিত করতে কৃষক কার্ড দেওয়া হচ্ছে এবং এই বছরের মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ কৃষক ও ৫০ লাখ পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। তাছাড়া দেশের বেকার সমস্যা সমাধানে এবং যুবসমাজকে দক্ষ করে তুলতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষকে দক্ষ ও কর্মক্ষম করে তোলার মাধ্যমেই দেশবাসীকে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়া সম্ভব।
তিনি দলমত নির্বিশেষে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এবং গণতন্ত্রকে বিকশিত করে একটি শক্তিশালী ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।