মস্কোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে রাশিয়া। নাৎসি জার্মানির পরাজয় উপলক্ষ্যে ৯ মে বিজয় দিবস প্যারেড সামনে রেখে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার মস্কোর বিমানবন্দরগুলো বন্ধ রাখা হয় এবং অনেক গ্রাহকের মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
রাশিয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় উদযাপনের পরিধি এবার আগের চেয়ে কমিয়ে এনেছে।ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলার আশঙ্কায় গত দুই দশকের মধ্যে এই প্রথম ভারী সামরিক সরঞ্জাম ছাড়াই এ প্যারেড অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
মস্কোর শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার সক্ষমতা ইউক্রেন সম্প্রতি দেখিয়েছে।সোমবার সকালে ক্রেমলিন থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত একটি বহুতল আবাসিক ভবনে ড্রোন আঘাত হানে।
সামরিক প্যারেডকে সুরক্ষিত রাখার প্রচেষ্টায় চলতি মাসের শুরুতে ৮-৯ মে ইউক্রেনের সঙ্গে একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল মস্কো।একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হলে কিয়েভ শহরের কেন্দ্রে ‘ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানো হবে।
ইউক্রেন এ প্রস্তাবকে ড্রোন হামলা থেকে প্যারেড রক্ষা করার একটি ‘ধূর্ত চাল’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এর জবাবে ৬ মে থেকে আলাদা এক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার একটি সামরিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত যুদ্ধবিরতি কিয়েভ পালন করবে এমনটা ভাবা ‘গুরুত্বহীন’।
আর্মেনিয়া সফরকালে জেলেনস্কি বলেন, মস্কো এখন এই ভয়ে আছে যে ‘রেড স্কয়ারের ওপর দিয়ে ড্রোন উড়তে পারে’।
প্যারেডের আগে রুশ রাজধানীর নিরাপত্তা দৃশ্যত কঠোর করা হয়েছে। পুরো শহরজুড়ে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং ক্রেমলিনের টাওয়ারগুলোতে স্নাইপার ও মেশিনগান ক্রু মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে মস্কোর বাসিন্দারা ঘুম থেকে উঠে দেখেন পুরো শহরে মোবাইল সিগন্যাল নেই। এই বিভ্রাটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কর্মজীবীরা। ট্যাক্সি চালকরা জানিয়েছেন তারা রাইড পাচ্ছিলেন না, আর কুরিয়ারের ডেলিভারি ম্যানরা গ্রাহকদের দরজায় নক করে ঘরের ওয়াইফাই ব্যবহারের অনুরোধ করতে বাধ্য হন, যাতে তারা অর্ডারটি ‘সম্পন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন। দুপুরের দিকে সংযোগ অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে।
নির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ না করেই মঙ্গলবার মস্কোর চারটি বিমানবন্দর তাদের কার্যক্রম স্থগিত করে।
রুশ কর্মকর্তারা এর আগে এ ধরনের শাটডাউন বা সেবা বন্ধ রাখাকে ড্রোন হামলা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে রাজধানীকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছেন। যদিও এটি একটি অত্যন্ত অজনপ্রিয় পদক্ষেপ, যা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভ্লাদিমির পুতিনের জনপ্রিয়তার সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান