যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা হবে কি না, তা নিয়ে নানা কানাঘুষার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সফরে যাচ্ছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে তিনি ইসলামাবাদে পৌঁছাচ্ছেন বলে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ সংক্রান্ত একটি এক্স পোস্টে জানানো হয়েছে, আরাঘচি একটি আঞ্চলিক সফরে অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে ইসলামাবাদের পাশাপাশি ওমানের মাসকাট এবং রাশিয়ার মস্কোও রয়েছে।
এই সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ইরানে চলমান যুদ্ধের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে।
তবে ওই পোস্টে পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য কোনো শান্তি আলোচনার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার ইসলামাবাদ, মাস্কাট ও মস্কো সফরে বের হচ্ছেন।
পাকিস্তান সরকারের কয়েকটি সূত্রও জানিয়েছে, আরাঘচির আজ রাতেই ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকেই খবর ছড়াচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে গিয়ে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নেবেন।তবে তারপর কয়েকদিন পেরোলেও ‘এয়ার ফোর্স-টু’ উড়োজাহাজ এখনো উড্ডয়ন করেনি। এগোয়নি দুপক্ষের আলোচনাও।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানোর ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে ইরানে যাতায়াতে নৌপথ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে, সেই সংকট নিরসনে এগিয়ে এসেছে পাকিস্তান। তারা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এরই মধ্যে প্রথম দফায় আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে, তবে সেই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।
এরপর দ্বিতীয় দফায় দুপক্ষকে বসানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানের নেতৃত্ব। বিবিসি জানিয়েছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দ্বিতীয় দফা আলোচনার আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসলামাবাদ, যার কারণে সেখানকার বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।