পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ঘিরে আন্তর্জাতিক মনোযোগ যখন তুঙ্গে, তখন ‘প্রপাগান্ডা’ ছড়ানোর অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতের কিছু গণমাধ্যম।
পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ, ইসলামাবাদের কূটনৈতিক উদ্যোগকে স্বীকৃতি না দিয়ে বরং বিভ্রান্তিকর তথ্য ও পক্ষপাতদুষ্ট বয়ান তুলে ধরছে ভারতীয় কিছু টিভি চ্যানেল।
পাকিস্তানের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।
এমন প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পেলেও, ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যম তা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে দেশটির ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ঘনিষ্ঠ মিডিয়াগুলোর বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট প্রচারণার অভিযোগ তুলেছেন বিশ্লেষকরা।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই ভারতীয় মিডিয়ার এ ধরনের কভারেজকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ ও ‘বিব্রতকর’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে এই ধরনের উপস্থাপন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। বরং পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের ইতিবাচক অবস্থানকে সামনে রেখে বিষয়টি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে নয়াদিল্লি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, ভারতীয় টেলিভিশন উপস্থাপকদের প্রশ্নের জবাবে বিদেশি বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা তাদের প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা করছেন। এসব মুহূর্ত দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
এরকম একটি ঘটনায় বিতর্কিত টিভি উপস্থাপক অর্নব গোস্বামী চীনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ভিক্টর গাওকে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে গাও প্রথমেই আলোচনায় সহায়ক পরিবেশ তৈরির জন্য পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তবে তার এই মন্তব্যে উপস্থাপক অস্বস্তিতে পড়েন এবং তিনি বিস্তারিত বলার আগেই তাকে থামিয়ে দেন।
একই ধরনের আরেকটি প্রতিবেদন সম্প্রচার করে ইন্ডিয়া টুডে। সেখানে উপস্থাপক ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স পাকিস্তানে পৌঁছাবেন না; মাঝপথেই তিনি বিমানের গতিপথ পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন।
আরেকটি বহুল প্রচারিত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক জেফরি গুন্টার পাকিস্তান সফরে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতীয় এক উপস্থাপকের উত্থাপিত উদ্বেগ সরাসরি নাকচ করে দেন।
ভারতের টাইমস নাউয়ের উপস্থাপক মাদধাবদাস জি দাবি করেন, পাকিস্তানে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নাকি ‘আসলে ভীত’ ছিলেন। এ জবাবে গুন্টার স্পষ্টভাবে বলেন, এ ধরনের ভিত্তিহীন অনুমান গুরুতর কূটনৈতিক বিষয়কে বিব্রতকর ‘পাকিস্তান বনাম ভারত সার্কাসে’ পরিণত করছে।
তিনি বলেন, ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চ্যানেল টাইমস নাউ, অথচ আপনারা এখন এমন আচরণ করছেন যেন কিছু স্কুল শিক্ষার্থী তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া করছে। আর আমি যেন সেই শিক্ষক, যে আপনাদের প্রত্যেককে শাস্তি দিতে যাচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনে তিনি পুরো প্যানেলকে ‘কোণে দাঁড় করিয়ে রাখবেন’ এবং ‘৩০ মিনিটের জন্য ডিটেনশনে টুপি পরিয়ে রাখবেন।’
গুন্টার আরও বলেন, বিষয়টিকে দ্বিপাক্ষিক বিরোধে টেনে আনা সম্পূর্ণ অনুচিত এবং এটি পুরো ইস্যুর গুরুত্বকে ছোট করে দেখায়।
সূত্র: জিও নিউজ