যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংলাপকে সামনে রেখে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ কার্যত ‘লকডাউন’-এর মধ্যে রয়েছে। আলোচনাকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীতে প্রায় ১০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ, সামরিক বাহিনী এবং বিশেষ সেবা কমান্ডো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুস্তরভিত্তিকভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ‘রেড জোন’ সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।যেখানে সরকারি স্থাপনাগুলো অবস্থিত, সেই এলাকায় প্রবেশের সব সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরকারি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে ৯ ও ১০ এপ্রিল রাজধানীতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। স্কুল ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় জনসমাগম কমিয়ে আনা যায়।
এই সংলাপকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ইসলামাবাদে পৌঁছাতে শুরু করেছেন।
এই সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আয়োজক হিসেবে দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংলাপের মূল লক্ষ্য হচ্ছে চলমান সংঘাত থেকে একটি সম্ভাব্য ‘অফ-র্যাম্প’ বা উত্তরণের পথ খুঁজে বের করা। তবে গভীর অবিশ্বাস, যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে মতপার্থক্য এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা এই আলোচনাকে শুরু থেকেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
এজেন্ডায় রয়েছে হরমুজ প্রণালীর ওপর তদারকি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং মিত্রগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধসহ ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ত্যাগের দাবি জানিয়েছে, যা তারা ‘অ-আলোচনাযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে।
লেবানন ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ইরান যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র তা মানতে নারাজ। বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যুই আলোচনার একটি ‘ব্রেকিং পয়েন্ট’ হয়ে উঠতে পারে।
তবে কিছু বিশ্লেষক আশাবাদী যে, দীর্ঘ সংঘাতে ক্লান্তি এবং যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা অন্তত সীমিত সমঝোতার পথ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার বিষয়ে অগ্রগতি আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইসলামেরবাদের এই সংলাপ তাৎক্ষণিক সমাধান না দিলেও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা