আয়রন ডোমের রিজার্ভ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ

আয়রন ডোমের রিজার্ভ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ

ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমে দায়িত্ব পালনকারী এক রিজার্ভ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার দেশটির পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

তদন্তে জানা গেছে, জেরুজালেমের ২৬ বছর বয়সী রাজ কোহেন নামে ওই সেনা সদস্য প্রায় এক মাস ধরে ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এ সময় তিনি আয়রন ডোমসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করেন।

পুলিশের আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত ইউনিট ও শিন বেতের যৌথ তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে কোহেন আয়রন ডোমের কার্যপদ্ধতি, ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ঘাঁটির অবস্থান এবং আয়রন ডোম ব্যাটারির অবস্থান সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেন।

গত ১৮ মার্চ জেরুজালেম জেলা আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কোহেন সম্পূর্ণ সচেতনভাবেই ইরানের এজেন্টের সঙ্গে কাজ করছিলেন। তথ্য সরবরাহের বিনিময়ে তিনি প্রায় এক হাজার মার্কিন ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি গ্রহণ করেন। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ওই এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেন।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, কোহেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন শত্রুকে সহায়তা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে তথ্য সরবরাহ এবং শত্রুকে সহায়ক হতে পারে এমন তথ্য আদান-প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে। দেশটির আইন অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় শত্রুকে সহায়তার শাস্তি আজীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় না।

কোহেন ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর এয়ারিয়াল ডিফেন্স ইউনিটে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা সম্পন্ন করেন।

সেখানে তিনি আয়রন ডোম ব্যবস্থার কমান্ড ও কন্ট্রোল টেকনিশিয়ান এবং লঞ্চার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে রিজার্ভ সদস্য হিসেবেও একই ইউনিটে কাজ করেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাত এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময়ও তিনি দায়িত্বে ছিলেন (গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত)।

তদন্তে আরও জানা যায়, ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে ইরানের এক এজেন্ট কোহেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেকে পরিচয় দেয় এবং অর্থের বিনিময়ে সহযোগিতা চায়। কোহেন নিজেই তার আয়রন ডোমে কাজের অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দেন।

তিনি ব্যাটারির নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কাজ, লঞ্চার প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া এবং পুরো সিস্টেমের কাঠামো ও বিভিন্ন ইউনিটের ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন। এমনকি ব্যাটারির সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন উপাদান এবং আশপাশে ছড়িয়ে থাকা লঞ্চিং সাইট সম্পর্কেও তথ্য দেন।

ডিসেম্বরের ৯ তারিখের দিকে কোহেন টেলিগ্রামের মাধ্যমে আয়রন ডোমের ২৭টি ছবি ও ভিডিও পাঠান। এতে ফায়ারিং প্রক্রিয়া, ফায়ার রেট, ব্যাকআপ লঞ্চারের উপস্থিতি এবং লঞ্চার প্রস্তুতির বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরা হয়।

এছাড়া, তিনি পূর্বে যেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন সাতটি বিমানবাহিনী ঘাঁটির অবস্থান এবং দুটি আয়রন ডোম ব্যাটারির অবস্থানও জানিয়ে দেন; যার একটি হাতজেরিম এবং অন্যটি পালমাচিম ঘাঁটিতে অবস্থিত।

কোহেন আরও কয়েকজন ইসরায়েলি নাগরিকের ব্যক্তিগত ও যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেন, যার মধ্যে রাষ্ট্রপতির বাসভবনের এক নিরাপত্তাকর্মী এবং বিমানবাহিনীতে কর্মরত তার এক আত্মীয়ের তথ্যও ছিল।

চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি তাকে আবার রিজার্ভ ডিউটিতে ডাকা হয়। তবে ১৮ ফেব্রুয়ারি তার হ্যান্ডলার ভিন্ন একটি টেলিগ্রাম প্রোফাইল থেকে (যেখানে কোহেনের বোনের ছবি ব্যবহার করা হয়) পুনরায় যোগাযোগ করলে তিনি ওই এজেন্টকে ব্লক করেন। পরে হুমকি পেয়ে তিনি তার ফোন থেকে টেলিগ্রাম অ্যাপ মুছে ফেলেন।

পুলিশ ও শিন বেত এক যৌথ বিবৃতিতে দেশটির নাগরিকদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে জানায়, শত্রু দেশের এজেন্ট বা অজানা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে অর্থের বিনিময়ে বা অন্য কোনো কারণে তাদের হয়ে কাজ করা গুরুতর অপরাধ।

তারা আরও জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে টেলিগ্রামের মাধ্যমে ইসরায়েলিদের গুপ্তচরবৃত্তি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়াতে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ইরানি এজেন্টরা।

গত দুই বছরে ইরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ডজনখানেক ইসরায়েলির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হাইফার ডেমন কারাগারে এ ধরনের আসামিদের জন্য আলাদা একটি ইউনিটও চালু করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের মধ্যে মাত্র একজন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, বাকি মামলাগুলো বিচারাধীন।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS