ফিফা বিশ্বকাপের এবারের আসর খেলবে ইরান, তবে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলতে চায় না দলটি। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন প্রধান মেহদি তাজ জানিয়েছেন, টুর্নামেন্ট থেকে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। বাছাইপর্ব পেরিয়ে আগেভাগেই মূল আসরে জায়গা নিশ্চিত করা ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয় ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার পর।
সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে খেলার কথা ইরানের। তবে তাজ জানিয়েছেন, এই ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআরআই)।
বুধবার ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সিকে তাজ বলেন, ‘জাতীয় দল তুরস্কে ক্যাম্প করছে, সেখানে দুটি প্রীতি ম্যাচও খেলব। আমরা আমেরিকাকে বয়কট করব, কিন্তু বিশ্বকাপকে নয়।’
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছে ইরানের প্রস্তুতিতেও। জর্ডানে হওয়ার কথা থাকলেও চার জাতির আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তুরস্কের আনাতোলিয়ায়। সেখানে ২৭ মার্চ নাইজেরিয়া এবং চার দিন পর কোস্টারিকার বিপক্ষে খেলবে ইরান।
এই বক্তব্য দেওয়ার দিনই তুরস্ক সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরেন নারী জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা।
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত নারী এশিয়ান কাপে অংশ নেওয়া দলটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় আয়োজক দেশ তাদের আশ্রয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। সাতজন সেই প্রস্তাব গ্রহণ করলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র দুজন অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি অস্ট্রেলিয়াকে খেলোয়াড়দের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, ইরানের পুরুষ দল যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে পারলেও তাদের ‘জীবন ও নিরাপত্তা’ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে।
পরবর্তীতে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, সম্ভাব্য কোনো হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসবে না।তবে সাবেক ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস সদস্য তাজ এই বক্তব্যকেই ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি তোলার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, প্রয়োজনে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিশরের বিপক্ষে ইরানের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে প্রস্তুত তাদের দেশ। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ফিফা।
ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ঘোষিত সূচি অনুযায়ী সব দল অংশ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা করছে সংস্থাটি।
এদিকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ফিফার, এমন মন্তব্য করেছেন ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রোর এশিয়া-প্যাসিফিক প্রধান বউ বুশ।
রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘ফিফার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব হলো মানবাধিকার রক্ষা করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বিশ্বকাপকে ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ মানবাধিকার প্রভাব মূল্যায়ন করা এবং নিশ্চিত করা যে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী; খেলোয়াড় থেকে সমর্থক, সবাই নিরাপদ থাকে।’