মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: ডিউক বলের ঘাটতিতে চাপে ইংলিশ ক্রিকেট

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: ডিউক বলের ঘাটতিতে চাপে ইংলিশ ক্রিকেট

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে ক্রিকেটে। সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় ডিউক বলের সংকটে পড়েছে ইংল্যান্ডের ক্লাব ক্রিকেট। নতুন মৌসুম শুরুর আগে চাহিদার অর্ধেক বল পেয়েই পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে তাদের।

ইংল্যান্ডের টেস্ট ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ব্যবহৃত এই বল তৈরি করে ‘ব্রিটিশ ক্রিকেট বলস লিমিটেড’।প্রায় চার দশক আগে প্রতিষ্ঠানটি কিনে নেওয়া দিলিপ জাজোদিয়া জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

আগামী ৩ এপ্রিল শুরু হবে ইংলিশ ক্রিকেটের নতুন মৌসুম। সাধারণত প্রতি মৌসুমে চার থেকে পাঁচ হাজার ডিউক বল সরবরাহ করা হয়। তবে পরিবহন সমস্যার কারণে এবার ঘাটতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

একটি ডিউক বল তৈরির প্রক্রিয়াই বেশ দীর্ঘ ও জটিল। স্কটল্যান্ডের ‘অ্যাবারডিন অ্যাঙ্গাস’ জাতের গরুর চামড়া প্রথমে পাঠানো হয় ইংল্যান্ডের চেস্টারফিল্ডে। সেখান থেকে তা যায় দক্ষিণ এশিয়ায়, যেখানে সেলাইয়ের মাধ্যমে বলের আকৃতি দেওয়া হয়। পরে আবার লন্ডনের ওলথামস্টো কারখানায় এনে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ করা হয়।

এই পুরো প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ মধ্যপ্রাচ্য হয়ে পরিবহন। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে প্রস্তুত বল থাকা সত্ত্বেও সেগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। এর আগে কোভিড-১৯ মহামারি ও ব্রেক্সিটের প্রভাবেও উৎপাদন ও সরবরাহে ধাক্কা খেয়েছিল ডিউক বল।

পরিস্থিতি নিয়ে ডেইলি মেইলকে জাজোদিয়া বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আমাদের বড় সংকটে ফেলেছে।মৌসুমের শুরুতে ক্লাবগুলোকে চাহিদার মাত্র ৫০ শতাংশ বল দিতে পারছি। উপমহাদেশের কারখানায় বল প্রস্তুত থাকলেও এয়ারলাইনগুলো তা পরিবহন করছে না।’

পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে কয়েক গুণ। তিনি বলেন, ‘সাধারণত ১২০টি বলের একটি বাক্স পরিবহনে প্রতি কেজিতে প্রায় ৫ ডলার খরচ হতো। এখন সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ ডলার। বেশিরভাগ চালান মধ্যপ্রাচ্য দিয়ে যায়, কিন্তু সেখানে রকেট হামলা শুরু হওয়ায় বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে।’

সংকট কাটাতে বিকল্প পথ খোঁজার কথাও ভাবছে কোম্পানি। জাজোদিয়া বলেন, ‘শুনেছি কেউ পাকিস্তান থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে পণ্য পাঠিয়েছে, এটা একটি বিকল্প পথ। খরচ বেশি হলেও উপায় খুঁজে বের করতেই হবে। শেষ পর্যন্ত হয়তো কুরিয়ার সার্ভিসকে চার্টার্ড ফ্লাইট ব্যবহার করতে হতে পারে।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS