মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যৌথ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি জানিয়েছে ইউরোপ ও এশিয়ার ছয়টি দেশ। একই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কমাতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান এই অবস্থান জানায়।
বিবৃতিতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
পাশাপাশি জ্বালানি উৎপাদন বাড়িয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে নির্দিষ্ট উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ছয় দেশ বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে ‘যথাযথ প্রচেষ্টায়’ তারা অবদান রাখতে প্রস্তুত। এ উদ্যোগে ইতোমধ্যে যুক্ত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতিকেও স্বাগত জানিয়েছে তারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। অথচ যুদ্ধের আগে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ এলএনজি এই পথেই পরিবাহিত হতো।
তবে ইরান দাবি করে আসছে, প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ নয়। যদিও তারা সতর্ক করে দিয়েছে; হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজকে এই পথ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
এমনকি নির্দেশনা অমান্য করলে হামলারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইতোমধ্যে অন্তত ১৬টি জাহাজ ও ট্যাংকারে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এর মধ্যেও ইরানের অনুমতি নিয়ে ভারত, তুরস্ক ও পাকিস্তান-এর কয়েকটি ট্যাংকার প্রণালিটি অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে।
হরমুজে অচলাবস্থার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বিশ্ববাজারে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৪০ ডলার বেশি।
এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ন্যাটো ও এশিয়ার মিত্র দেশগুলোর প্রতি হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তবে একাধিক আহ্বান সত্ত্বেও ইউরোপীয় দেশগুলোর সাড়া এখনো সীমিত।
এদিকে এশিয়ার মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও অনীহা দেখা গেছে। জাপান ও অস্ট্রেলিয়া স্পষ্টভাবে যুদ্ধজাহাজ না পাঠানোর কথা জানিয়েছে, যদিও দক্ষিণ কোরিয়া বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথা বলেছে। চীনের কাছেও একই আহ্বান জানানো হলেও চীন তাতে সাড়া দেয়নি।
বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ৪০ কোটি ব্যারেল কৌশলগত মজুত জ্বালানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানি তেলের ওপর বিধিনিষেধও শিথিল করা হতে পারে। এমনকি নিজস্ব মজুত থেকেও তেল ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ছয় দেশ বলেছে, জ্বালানি বাজারে ভারসাম্য ফেরাতে উৎপাদন বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সূত্র: আল-জাজিরা