দেশে প্রথমবারের মতো চলন্ত ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে সরাসরি স্যাটেলাইটভিত্তিক উচ্চগতির ‘স্টারলিংক’ ইন্টারনেট সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বিএসসিএল রেলওয়েতে পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংক কানেক্টিভিটি চালু করেছে বলে বিএসসিএল এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে তিনি বুধবার দুই দফা পরিদর্শন করেন। এতে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।যাত্রীরা এখন ট্রেনের ভেতরেই স্টারলিংক ওয়াইফাই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।
সরকারের উদ্যোগে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক দেশের সব বিমানবন্দর ও রেলওয়ে স্টেশনে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা চালুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) থেকে দেশের কয়েকটি জনপ্রিয় ও ভিআইপি আন্তঃনগর ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে এই ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনটি ট্রেনে যাত্রীরা এ সুবিধা পাচ্ছেন।ট্রেনগুলো হলো পর্যটক এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস এবং বনলতা এক্সপ্রেস।
এর আগে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব বিমানবন্দর ও রেলওয়ে স্টেশনে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা চালু করা হবে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বিএসসিএল রেলওয়েতে পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে তিনি বুধবার দুই দফা পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, সরকার দেশের কানেক্টিভিটি বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে।
তারই ধারাবাহিকতায় চলন্ত ট্রেনে স্টারলিংক ইন্টারনেট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে যাত্রীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। আপাতত এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে সেবাটিকে আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন তিনি।
বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমাদুর রহমান বলেন, সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী বিএসসিএল দেশের ডিজিটাল কানেক্টিভিটি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।চলন্ত ট্রেনে স্টারলিংক ইন্টারনেট চালুর ফলে যাত্রীরা আরও উন্নত সেবা পাবেন এবং রেলওয়ে ভ্রমণ হবে আরও আধুনিক ও সুবিধাজনক।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য ননস্টপ ও অধিক চাহিদাসম্পন্ন আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতেও স্টারলিংকভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্থায়ীভাবে চালু করা হবে। এতে ট্রেনের ভেতর বসেই যাত্রীরা ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ক্লাস বা অফিসের কাজ সহজেই করতে পারবেন।