ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অন্যতম হোতা ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে সহায়তার অভিযোগে ফিলিপ সাংমা নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। গ্রেপ্তারকৃত ফিলিপও একজন বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে।
এসটিএফ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাতে উত্তর২৪ পরগনা জেলার কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকা থেকে ফিলিপকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীরকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করিয়েছিলেন এই ফিলিপ।বর্তমানে তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই চক্রের অন্য সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য উদ্ধারে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এসটিএফ।
এর আগে গত সপ্তাহের শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৮ মার্চ তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের পুলিশি রিমান্ডের আদেশ দেন। আগামী ২১ মার্চ তাদের পুনরায় বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হবে।গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তারা মেঘালয়ে আশ্রয় নেওয়ার পর পুনরায় বনগাঁ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পরিকল্পনা করছিল।
গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর মেঘালয় পুলিশ এই দুই খুনিকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে সামি ও পুত্তি নামে দুই ভারতীয় নাগরিককে শনাক্ত করেছিল। তারা অভিযুক্তদের আশ্রয় (শেল্টার) দিয়েছিল বলে গুঞ্জন থাকলেও তৎকালীন পরিস্থিতির কারণে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি স্বীকার করেনি। পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফের জালে মূল হোতারা ধরা পড়ায় তদন্তে গতি আসে।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেটধারী দুর্বৃত্তরা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপরই বাংলাদেশের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতে অবস্থানরত আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু হয়।