আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শুধু আইন প্রণয়ন করে দেশে নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। আমাদের এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং সমান গুরুত্ব দিয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে।যেন মানুষ বুঝতে পারে যে, নির্যাতন একটি অমানবিক কাজ, এটি অন্যায় এবং অগ্রহণযোগ্য।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ইউএনসিএটি ও ওপিসিএটি বাস্তবায়ন বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মানবাধিকার সংস্থা অধিকার এবং নির্যাতন, জোরপূর্বক গুম, যথেচ্ছ আটক ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণের বিরুদ্ধে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক জোট ওএমসিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধান নিজেই শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করে। অনুচ্ছেদ ৩৫(৫) স্পষ্টভাবে বলে যে, কোনো ব্যক্তিকে নির্যাতন বা নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর শাস্তি বা আচরণের শিকার বানানো যাবে না।সাংবিধানিক এই বিধান মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র এবং আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী সম্মেলনের নীতিসমূহকে প্রতিফলিত করে। এটি সরাসরি একটি নিষেধাজ্ঞা এবং রাষ্ট্র ও সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।
চাইলেই রাতারাতি এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ হবে না জানিয়ে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, গত দুই মাসে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জোরপূর্বক গুমের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, আগস্ট-পরবর্তী ক্ষমতার পালা বদলের পর থেকে হেফাজতে নির্যাতনও ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এগুলো আমাদের আইনি সংস্কৃতি, আমাদের আইনশাস্ত্র এবং আমাদের জাতীয় বিবেকের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।