News Headline :
বাবা-মেয়ের সিনেমা ‘কিং’, কাজের অগ্রগতি কতদূর? ছাগল–কাণ্ডে আলোচিত মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পিছিয়েছে অস্ত্রোপচার শেষে আইসিইউতে অমিতাভ! এখন কেমন আছেন অভিনেতা? কেন সারা বছর সানগ্লাস ব্যবহার জরুরি কাবলি ছোলার উপকারিতা ফাইনালের হাফটাইম শোয়ে কত টাকা পেলেন শাকিরা, বিবার, ম্যাডোনারা – বিশ্বকাপ ফুটবল বাগদানের পর পাকিস্তানে, হবু বরের দেশে নিয়ে রহস্য বাড়ালেন নীহা! শৈশবের স্বপ্ন থেকে বিশ্বরেকর্ড, এবার ঘরের মাঠে স্বর্ণ চান জশ কের ‘যতদিন ইচ্ছে খেলবে মেসি’—আর্জেন্টাইন অধিনায়কের অবসর জল্পনা ওড়ালেন স্কালোনি ফিফার প্রতি অসন্তোষে বিশ্বকাপ ফাইনালই বয়কট করলেন উয়েফা সভাপতি
মাদক সাম্রাজ্য নিয়ে শীর্ষ ৫ সিনেমায় কী আছে

মাদক সাম্রাজ্য নিয়ে শীর্ষ ৫ সিনেমায় কী আছে

বিশ্বজুড়ে মাদক সাম্রাজ্যের অন্ধকার জগতের গল্পগুলো বরাবরই দর্শক, নির্মাতাদের আগ্রহের বিষয়। বাস্তব ঘটনা ও কল্পনার মিশেলে মাদকসম্রাটদের উত্থান, ক্ষমতা, সহিংসতা ও পতনের গল্প বক্স অফিসেও আয়ে এগিয়ে থাকে। বিশ্বের মাদক সাম্রাজ্য, অপরাধ জগতের উত্থান-পতন নিয়ে গত বছরের নভেম্বরে দ্য উইক শীর্ষ ৫ সিনেমার তালিকা তৈরি করে। মাদক সাম্রাজ্য নিয়ে সিনেমায় কী আছে, দেখে নিতে পারেন।

১. স্কারফেস (১৯৮৩)
মাদক সাম্রাজ্য নিয়ে আশির দশকের আলোচিত সিনেমা ‘স্কারফেস’ এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। কী আছে এর গল্পে? কিউবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা টনি মন্টানা ধীরে ধীরে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। ক্ষমতা, অর্থ ও অহংকার তাকে শীর্ষে তুললেও শেষ পর্যন্ত লোভ তার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মন্টানা চরিত্রে আল পাচিনোর শক্তিশালী অভিনয় সিনেমাটিকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছিল। সিনেমাটির আইএমডিবি রেটিং ৮.৩। এতে ভোট দিয়েছেন ১০ লাখ ভক্ত। সিনেমাটির বেশ কিছু চরিত্রই ছিল মাদক অপরাধে জড়িত থাকা ব্যক্তিদের জীবনের ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত। বলিভিয়ার শীর্ষ এক মাদক কারবারিকে দিয়ে অভিনয়ও করিয়েছিলেন পরিচালক। সিনেমার জন্য গোল্ডেন গ্লোবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন আল পাচিনো। এখনো টনি তাঁর পছন্দের চরিত্রের একটি। এটি নেটফ্লিক্সে দেখা যাবে।

২. ট্রাফিক (২০০০)
আলোচিত এ সিনেমায় মাদক ব্যবসার বৈশ্বিক প্রভাবকে একাধিক চরিত্র ও দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা হয়েছে। রাজনীতিবিদ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ব্যবসায়ী ও মাদকে আসক্ত—সব পক্ষের বাস্তবতায় মাদক সমাজে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই ড্রাগ ক্রাইম মনস্তাত্ত্বিক ট্রাফিক–এ তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমার গল্পে দেখানো হয়, একজন কনজারভেটিভ জর্জ, যিনি নতুনভাবে ড্রাগ ক্রেজার পদে নিয়োগ পান। এদিকে তাঁর কন্যা ভয়াবহ হেরোইনে আসক্ত। মাদক নিয়ে আলোচিত সিনেমাটি চারটি শাখায় অস্কার পুরস্কার জয় করে। পরিচালক হিসেবে স্টিভেন সোডেনবার্গ অস্কার পান। সিনেমায় অভিনয় করেছেন মাইকেল ডগলাস, বেনিসিও দেল তোরো প্রমুখ। সিনেমা এখন নেটফ্লিক্সে দেখা যাচ্ছে।

৩. ব্লো (২০০১)
বিখ্যাত মাদক কারবারি জর্জ জাংয়ের জীবনের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ড্রাগ ও ক্রাইম ঘরানার সিনেমা ব্লো। এ সিনেমায় দেখানো হয়েছে, কীভাবে এক সাধারণ ব্যক্তি আন্তর্জাতিক কোকেন চক্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হয়। এই জর্জ জাং ছিলেন একজন সাধারণ মার্কিন নাগরিক। হঠাৎ তিনি ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে আন্তর্জাতিক কোকেন ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। জর্জ জাং ধীরে ধীরে মাদক সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত হন। মাদক ব্যবসার উত্থানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্কের ভাঙন ও পতনের চিত্র সিনেমায় তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমায় জর্জ জাং ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জনি ডেপ। সিনেমাটি পরিচালনা করেন টেড ডেমে। সিনেমায় দেখানো হয়, সেই জর্জ জাং জেলে। সত্যিকারের সেই জাং সিনেমাটি মুক্তির ১৩ বছর পর জেল থেকে মুক্তি পায়। সিনেমাটি নেটফ্লিক্সে দেখতে পারবেন।

৪. নো কান্ট্রি ফর ওল্ড ম্যান (২০০৭)
কোয়েন ভ্রাতৃদ্বয়ের সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০০৭ সালে। মেক্সিকো সীমান্তের মাদক চোরাকারবারিদের অপরাধ ঘিরেই এ সিনেমা। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো পাশাপাশি দেশ। দুই দেশের সীমান্তের ২৬টি বড় প্রবেশপথ দিয়েই মাদক চোরাচালান হয়। এই পথগুলো দিয়ে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ শতাংশ কোকেন আসে। তেমন একটি মাদক লেনদেনের সীমান্তবর্তী জায়গা থেকে হঠাৎ একটি ব্যাগ পাওয়া যায়। তাতে ২০ লাখ ডলার। মাদক কারবারিদের সেই টাকা নিয়ে পালানোর গল্প নিয়েই সিনেমা নো কান্ট্রি ফর ওল্ড ম্যান। এতে অভিনয় করেছেন জেভিয়ার বারদেম, যশ ব্রোলিন, টমি লি জোনস প্রমুখ। সিনেমাটি চারটি শাখায় অস্কার জেতে। জেভিয়ার বারদেম প্রথম স্প্যানিশ অভিনেতা সিনেমাটির জন্য একই সঙ্গে হলিউডের অস্কার, স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড, বাফটা ও গোল্ডেন গ্লোবে মনোনয়ন ও পুরস্কার পান। প্যারামাউন্ট প্লাস সাইটে সিনেমাটি দেখা যাবে।

৫. সিকারিও (২০১৫)
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো বর্ডারের মাদক চোরাকারবারিদের নিয়ে আরেক আলোচিত সিনেমা ‘সিকারিও।’ দ্য উইক–এর তালিকায় শীর্ষ পাঁচে রয়েছে। গল্পে দেখানো হয়, সীমান্তে মাদক কারবার কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত এলাকায় তীব্র হয়ে ওঠা মাদকবিরোধী যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এ জন্য গঠন করা হয় সরকারি টাস্কফোর্স। দায়িত্ব পড়ে একজন এফবিআই কর্মকর্তার ওপর। অভিযানে অংশ নেওয়া এফবিআই কর্মকর্তার চোখে চোরাকারবারি জগতের নির্মম বাস্তবতা উঠে আসে এ সিনেমায়। এটি পরিচালনা করেছেন ডেনিস ভিলেনিউভ। সিনেমাটির আইএমডিবি রেটিং ৭.৭। এটি তিনটি শাখায় অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিল। সিনেমায় অভিনয় করেছেন জশ ব্রোলিন, এমিলি ব্লান্ট। সিনেমাটি পিকক সাইটে দেখা যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS