একদিকে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর নির্বাচনের ডামাডোল, অন্যদিকে বকেয়া বেতনের দাবিতে ফুটবলারদের চরম অসন্তোষ—সব মিলিয়ে মতিঝিলের সাদা-কালো শিবিরে এখন মুদ্রার দুই পিঠ। আগামী ৯ মার্চ ক্লাবের বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিনেই পাওনা আদায়ের দাবিতে অনুশীলন বয়কট করেছেন দলের সিনিয়র ফুটবলাররা।
সোমবার দুপুর আড়াইটায় প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় পর্বের প্রস্তুতির জন্য ফুটবলারদের অনুশীলনে নামার কথা ছিল। কিন্তু পাওনা টাকা না পাওয়ায় সিনিয়র ফুটবলাররা একাট্টা হয়ে মাঠের বাইরে অবস্থান নেন।জুনিয়ররা মাঠে থাকলেও সিনিয়রদের এই ‘নীরব প্রতিবাদ’ ক্লাবের আর্থিক সংকটের কঙ্কালসার চেহারাটিই যেন সামনে নিয়ে এসেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন খেলোয়াড় আক্ষেপ করে বলেন, ‘বারবার শুধু তারিখ দেওয়া হয়। কখনো লিগের দোহাই, কখনো জাতীয় নির্বাচনের অজুহাত, আর এখন ক্লাব নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের পেট তো আর নির্বাচন বোঝে না।’
খেলোয়াড়দের অভিযোগ, তাদের মাসিক বেতনেরও পূর্ণ অংশ দেওয়া হচ্ছে না। সামনে রমজান ও পারিবারিক খরচের চাপে দিশেহারা হয়েই তারা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, আগামী ৯ মার্চ ঢাকা ক্লাবে ৩৭১ জন ভোটারের অংশগ্রহণে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে মাঠের অস্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এজিএম প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব লোকমান হোসেন ভূঁইয়া বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং জানান যে তিনি পেমেন্ট নিয়ে আলাদাভাবে কথা বলবেন।
২০২১ সালের পর আবারও নির্বাচনের পথে হাঁটছে মোহামেডান। কিন্তু নির্বাচনের চটকদার প্রচারণার ভিড়ে ফুটবলারদের এই ধর্মঘট ক্লাবের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। মঙ্গলবার সিনিয়ররা অনুশীলনে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে এখনও কাটেনি ধোঁয়াশা।