News Headline :
‘চঞ্চলা হাওয়ারে’র সেই নায়িকা অলিভিয়া এখন কোথায় ভিটামিন ‘সি’ ভরপুর কিছু অপ্রচলিত খাবার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ছোলা-মুড়ি দিয়ে ইফতার করলেন ওজিল নিয়ম রক্ষার ম্যাচে কানাডাকে ৮২ রানে হারাল আফগানিস্তান বিশ্বকাপে ভরাডুবি: ক্রিকেটারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে অজি বোর্ড আফগানিস্তানে নতুন আইন— স্ত্রীকে মারধরে জখম হলেই স্বামীর শাস্তি সিদ্ধান্ত ছাড়াই থেমে গেল রাশিয়া–ইউক্রেন শান্তি আলোচনা আরও নাজুক ও দুর্বল ঋণ পরিস্থিতি পাবে বর্তমান সরকার: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এতিম শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানের ইফতার পরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্য বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি অবৈধ প্রক্রিয়া
প্রথম দিনেই জমজমাট চকবাজারের ইফতার বাজার

প্রথম দিনেই জমজমাট চকবাজারের ইফতার বাজার

রমজানের প্রথম দিন থেকেই পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজার এলাকায় জমে উঠেছে প্রায় চার শতকের পুরোনো ইফতারির বাজার।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর থেকেই সার্কুলার রোডজুড়ে দেখা যায় মানুষের ঢল। বাতাসে ভেসে বেড়ায় কাবাব, হালিম ও জিলাপির মিষ্টি সুঘ্রাণ। বাহারি ইফতারের স্বাদ নিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করছেন এখানে।

বিক্রেতাদের কণ্ঠে ভেসে আসে সেই চেনা হাঁক—‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙায় ভইরা লইয়া যায়।’ চার শতকের ঐতিহ্যে গড়ে ওঠা এই বাজার কেবল কেনাবেচার স্থান নয়; এটি পুরান ঢাকার সংস্কৃতি ও রন্ধন ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

আস্ত মুরগির কাবাব থেকে মোরগ মুসাল্লম, বটি ও টিক্কা কাবাব, শামি, শিক ও সুতিকাবাব, কোয়েল ও কবুতরের রোস্ট—সবই মিলছে একসঙ্গে। রয়েছে হালিম, দইবড়া, সমুচা, শাহি জিলাপি, হালুয়া, লাবাং, কাশ্মীরি ও ইরানি শরবতসহ প্রায় শতাধিক পদ।

ঐতিহ্যবাহী ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ ইফতারের বিক্রেতা আজমল মিয়া জানান, ব্রিটিশ আমলে তার দাদা চান মিয়া এই ব্যবসা শুরু করেন। পাকিস্তান আমলে তার বাবা তা চালিয়ে যান। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে তিনিও একই পেশায় যুক্ত। একসময় এটি ‘শেখ চূড়ার ভর্তা’ নামে পরিচিত ছিল; স্বাধীনতার পর বর্তমান নামটি প্রচলিত হয়।

প্রায় ১৭ ধরনের মসলা ও খাঁটি ঘি দিয়ে তৈরি এ ইফতারে গরুর মাংস ব্যবহার করা হয় না—মুরগি, খাসি ও কবুতরের মাংস এবং কলিজাই প্রধান উপকরণ।

একশ বছরের বেশি সময় ধরে সুতিকাবাব বিক্রি করে আসছে মিজান মোল্লার পরিবার। বর্তমানে তার ছেলে মনির মোল্লা গরু ও খাসির সুতিকাবাব বিক্রি করছেন—প্রজন্মান্তরে চলে আসা এই পেশায়।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, সুতিকাবাব ১০০০ টাকা, খাসির কাবাব ১২০০ টাকা। শিক কাবাব ১২০–১৫০ টাকা, কাঠি কাবাব ৮০–১০০ টাকা, কবুতর ১৫০ টাকা, কোয়েল ৮০ টাকা, আস্ত মুরগি ২৫০–৩৫০ টাকা, খাসির লেগ রোস্ট ১০০০ টাকা, ঝাল পরোটা ৬০ টাকা।হালিম পরিমাণভেদে ১৫০–৬০০ টাকা, ডিম চপ ২০ টাকা। আলু চপ, পেঁয়াজু, বেগুনি, সিঙ্গারা ও সমুচা ৫–১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাহি জিলাপি, রসমালাই ও দই প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা; দুধসর ৪৫০ টাকা; ঘিয়ে ভাজা জিলাপি ৩০০ টাকা; জাফরান শরবত লিটারপ্রতি ৩০০ টাকা। এছাড়া দই বড়া প্রতি পিস ৩০ টাকা এবং হালুয়া পরিমাণভেদে ৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইফতার কিনতে আসা পুরান ঢাকার বাসিন্দা জাহিদুর রহমান বলেন, রমজান এলে চকবাজারে না এলে যেন ইফতারই পূর্ণতা পায় না। পরিবারের আবদারে এবারও এসেছি। তবে গত কয়েক বছরে দাম বেড়েছে, আর মান কিছুটা কমেছে।

তবে ঐতিহ্যবাহী এ বাজারের খাবারের স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক দোকানে খাবার খোলা অবস্থায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিক্রয়কর্মীদের অনেকের মাথায় ক্যাপ বা হাতে গ্লাভস নেই। বিক্রেতাদের দাবি, অধিকাংশ খাবার চুলা থেকে নামানোর পরপরই বিক্রি হয়ে যায়, তাই দীর্ঘ সময় ঢেকে রাখার প্রয়োজন পড়ে না।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS