পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে দেখা গেছে তীব্র যানজট। অফিস ছুটির পর ঘরমুখী মানুষের চাপে শাহবাগ থেকে শ্যামলী পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ধীরগতির যান চলাচল ও দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
রমজান উপলক্ষে সরকারি অফিস, আদালত ও ব্যাংকের জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে সরকার।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া কার্যক্রম শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৩টায়।প্রথম দিন কর্মঘণ্টা শেষ হতেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বেড়ে যায় যানবাহন ও যাত্রীর চাপ।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শাহবাগ, বাংলা মোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, আসাদগেট ও শ্যামলী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিকেল ৩টার পর থেকেই সড়কে গাড়ির সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। অনেক স্থানে যানবাহন ধীরগতিতে চলতে থাকে, কোথাও কোথাও তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। ইফতারের আগে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন অনেকে।
কারওয়ান বাজার এলাকায় গাড়ির অপেক্ষায় থাকা আসাদ হোসেন বলেন, অফিস শেষ করে বের হওয়ার পরও ভিড়ের কারণে গাড়িতে উঠতে পারেননি। শাহবাগগামী বাসের অপেক্ষায় থেকে তিনি জানান, রাস্তায় যেমন যানজট, তেমনি বাসেও অতিরিক্ত ভিড়। প্রথম ইফতার পরিবারের সঙ্গে করতে চাইলেও যানজটে সময়মতো বাসায় পৌঁছানো যাবে না।
আসাদগেটে মালিবাগগামী যাত্রী মো. মিনহাজ বলেন, যানজটের কারণে মোহাম্মদপুর টাউন হল থেকে হেঁটে আসাদগেট পর্যন্ত এসেছেন।
কিন্তু সেখানেও বাসে ওঠার মতো পরিস্থিতি নেই। অনেক যাত্রী বাসের গেটে ঝুলে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, যানজট কম থাকলে ইফতারের আগে পৌঁছানো যায়।
আরেক যাত্রী হাবিব জানান, ফাঁকা বাসের অপেক্ষায় থাকলে ইফতারের পরও বাসায় ফেরা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই ঝুঁকি নিয়েই গেট ধরে বাসে উঠেছেন।
সাভার পরিবহনের এক চালকের সহকারী বলেন, প্রথম রোজায় অধিকাংশ মানুষ অফিস শেষে দ্রুত বাসায় ফিরতে চান। ফলে একদিকে গাড়িতে অতিরিক্ত যাত্রী, অন্যদিকে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় যানজট তৈরি হয়েছে।
কারওয়ান বাজারে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য সজল বলেন, অফিস ছুটির সময় হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সড়কে চাপ বেড়েছে। রমজান মাসে বিকেল বেলায় এমন পরিস্থিতি প্রায়ই দেখা যায়।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে রমজান মাস শুরু হয়েছে।