মা বলেছেন, ‘মৃত্যুর আগে আর কোনো অপ্রাপ্তি নেই’

মা বলেছেন, ‘মৃত্যুর আগে আর কোনো অপ্রাপ্তি নেই’

দুই দশকের ক্যারিয়ারে ‘লাকি সেভেন’ হয়ে ধরা দিল সাঁতাও। ক্যারিয়ারের ৭ নম্বর সিনেমা দিয়ে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছেন আইনুন পুতুল। নানা প্রসঙ্গে প্রথম আলোর মুখোমুখি হলেন অভিনেত্রী। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন মনজুরুল আলম

পুরস্কারের কথা শুনে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন কে?

আইনুন পুতুল: মা। আমার মা বলেছেন, ‘মৃত্যুর আগে আর কোনো অপ্রাপ্তি নেই।’ তাঁর জন্য এটা অনেক বড় সুসংবাদ। আমার কোনো স্বীকৃতি মা দেখলেন, এটাও আমার কাছে অনেক আনন্দের।

শুটিং নিয়ে ব্যস্ততা কেমন?

আইনুন পুতুল: দুই বছর ধরে আমি নিয়মিত শুটিং করতে পারছি না। মাকে সময় দিতে হয়। আমার মা অসুস্থ। এখন নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হয়। গত অক্টোবর থেকে কিছু কাজ করছি। ঈদের কিছু কাজ করব। নাটকই বেশি করা হচ্ছে।

ক্যারিয়ারের শুরু কথা শুনতে চাই…

আইনুন পুতুল: আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিষয়ে পড়াশোনা করেছি। ক্যাম্পাসে নিয়মিত মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। পরে ক্যাম্পাসের এক বড় ভাই, পলাশ ভাই, আমাকে বাংলাভিশনের একটি নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। সেই ২০০৬ সালে শুরু। মাঝের কয়েক বছর অভিনয় করলেও ২০১২ সাল থেকে অভিনয়কে আমি নিয়মিত পেশা হিসেবে নিই। এখনো অভিনয় করে যাচ্ছি।

দুই দশকের ক্যারিয়ারে টার্নিং পয়েন্ট কোনটা?

আইনুন পুতুল: পৌষ ফাগুনের পালা। ধারাবাহিকটিতে আমি ইন্তেখাব দিনার ভাইয়ের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। তখন অনেক প্রশংসা পেয়েছিলাম। প্রথম আলোতে নিউজ হয়েছিল। সেই থেকে বেশির ভাগ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করতাম। সর্বশেষ যখন অভিনয় থেকে দূরে ছিলাম, তখনো সাতটির মতো ধারাবাহিক ছাড়তে হয়েছিল।

‘সাঁতাও’-এর পর কোনো সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছিলেন?

আইনুন পুতুল: বেশ কিছু প্রস্তাব পেয়েছি। সেই সময়ে অনেকেই আমাকে সিনেমায় অভিনয় করার জন্য ফোন দিতেন, নক দিতেন। কিন্তু কোনো কাজকেই হ্যাঁ বলতে পারিনি। সেই সময় মায়ের চিকিৎসার জন্য ভারতে ছিলাম। পরে মাকে নিয়েই ব্যস্ত।

‘সাঁতাও’ আপনার কততম সিনেমা?

আইনুন পুতুল: ৭ নম্বর সিনেমা। আমার ক্যারিয়ারে লাকি সেভেন হয়ে এসেছে সাঁতাও। আগের ৬টি সিনেমায় আমি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছি। প্রধান চরিত্রে এটাই আমার প্রথম অভিনয়। ক্যারিয়ারের ২০তম বছরে ৭ নম্বর সিনেমা দিয়ে পুরস্কার পেলাম।

আপনাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে কে?

আইনুন পুতুল: আমার অনেক অপ্রাপ্তি ছিল, হতাশা ছিল, কিন্তু দিন শেষে পরিবারই আমাকে সাহস জুগিয়েছে। পরিবারই শিখিয়েছে হেরে যাওয়া যাবে না। এটা আমার বড় আশ্রয়। দিন শেষে পরিবারই সব। পরিবারই সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।

কার অভিনয় ভালো লাগে?

আইনুন পুতুল: বলা যায়, সবার অভিনয়ই ভালো লাগে। জয়া আহসানের অভিনয় পছন্দ করি, জাকিয়া বারী মমর অভিনয় পছন্দ করি, নুসরাত ইমরোজ তিশা, মেহজাবীন চৌধুরী—সবার অভিনয়ই ভালো লাগে। সবার অভিনয়ে বৈচিত্র্য আছে, সমালোচনা আছে। আমি আমার জায়গা থেকে ভালোটা গ্রহণ করি। কে ভালো কে মন্দ, ওই বিচার আমি করতে চাই না।

নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা কী?

আইনুন পুতুল: দেশে শান্তি ফিরে আসুক, সেটাই চাই। ভয়ভীতি ছাড়া সবাই নির্বিঘ্নে থাকুক, সেটা চাই। দেশে মারামারি, হানাহানি বন্ধ হোক। ভালোভাবে দেশ চলবে, সেটাই চাওয়া।

পরবর্তী সিনেমা নিয়ে পরিকল্পনা কী?

আইনুন পুতুল: প্রস্তাব আছে। সব কাজে তো হ্যাঁ বলব না। তাতে সময় লাগে লাগুক। ভালো কাজের জন্য অপেক্ষায় থাকব। এ ছাড়া এখন একক ও ধারাবাহিক নাটক নিয়েই থাকতে চাই।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS