বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা (প্রতিবন্ধী) চাকরিতে তাদের জন্য আলাদা করে ১ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, গত গণআন্দোলনের সময় কোটা পদ্ধতি বাতিল করার সময় প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ কোটা রাখা হয়। এতে প্রতিবন্ধীদের জন্য জায়গা সংকুচিত হয়ে গেছে। প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা ১ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করলে তাদের কিছুটা হলেও মূলধারায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে আসন্ন জাতীয় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ‘বাংলাদেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে ডিআরডাব্লিউ ও টিআইবি। সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিবন্ধীরা যেন সুবিধাজনক ব্যবস্থায় গোপনীয়তা রক্ষা করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে ব্যাপারে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
লিখিত বক্তব্যে ডিআরডাব্লিউর সভাপতি ডা. নাফিসুর রহমান বলেন, প্রতিবন্ধীদের জন্য গৃহীত উদ্যোগ গ্রহণে প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যেন গৃহীত পদক্ষেপ প্রতিবন্ধীবান্ধব হয়।সংরক্ষিত আসনে প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তত একটি আসন সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে আইন প্রণয়ন ও জাতীয় পর্যায়ে নীতি গ্রহণে প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।
সাইট সেভার্স বাংলাদেশের ডিরেক্টর অমৃতা রোজিনা রোজারিও বলেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সঠিক রিপোর্টিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়নে নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।
সঠিক তথ্য না থাকলে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
ডিআরডাব্লিউর সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য গোপনীয়তা রক্ষা করে ভোটদানের জন্য পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে কোনো ভোটকেন্দ্রের বৈরী অবস্থা মোকাবিলা করে ভোট দিতে না হয়, বাসায় বসে ভোট দেওয়া যায়।
সেন্টার ফর সার্ভিসেস অ্যান্ড ইনফরমেশন অন ডিজঅ্যাবিলিটির (সিএসআইডি) নির্বাহী পরিচালক খন্দকার জহুরুল আলম বলেন, প্রতিবন্ধীদের ভোটদানের ক্ষেত্রে সরকারের কাছে যে দাবি তোলা হয়েছিল, সেসব দাবির ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো বাস্তবায়নে কোনো ধরনের প্রচার কার্যক্রম চালানো শুরু হয়নি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে জীবনযাপনে আধুনিক উপকরণ অনিবার্য হয়ে পড়েছে। লিফট ছাড়া চলে না। তেমনি প্রতিবন্ধীদের চলাফেরা ও ভাব বিনিময়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ অনিবার্য। এ বাস্তবতায় সরকারি অফিসের পাশাপাশি বেসরকারি অফিসগুলোতে প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার, ব্রেইল বই এবং চলাফেরার জন্য সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মনসুর আহমেদ চৌধুরী, অমৃতা রোজিনা রোজারিও, মহুয়া পাল ও মো. আব্দুল্লাহ।