বন্দিদের অবৈধ কার্যকলাপ রোধ এবং পরিবহন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পুলিশের ব্যবহৃত প্রিজনভ্যানে আইপি ক্যামেরা স্থাপন ও সেই মনিটরিং ব্যবস্থায় কারা কর্তৃপক্ষকে যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. তানভীর হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন চিঠির বিষয়টি স্বীকার করেন।
চিঠিতে বলা হয়, কারাগার থেকে আদালতে হাজিরার জন্য বন্দিদের পুলিশ হেফাজতে প্রিজনভ্যানে পরিবহন করা হয়।
এ সময় প্রিজনভ্যানে অবস্থানকালে বন্দিদের একটি অংশ মাদক গ্রহণ, অবৈধ মাদকদ্রব্য বহন এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অননুমোদিত যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ পাচ্ছেন এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কোনো ঘটনায় এসব অভিযোগের বাস্তব প্রমাণও কারা অধিদপ্তরের কাছে এসেছে।
কারা অধিদপ্তর জানায়, বন্দিরা পুলিশ হেফাজতে থাকায় ওই সময় সংঘটিত কার্যক্রমের ওপর কারা কর্তৃপক্ষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে বাস্তবে বিভিন্ন ঘটনার দায় প্রায়ই কারা কর্তৃপক্ষের ওপর এসে পড়ে, যা সংস্থাটিকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে।
এই প্রেক্ষাপটে বন্দি নজরদারি জোরদার করতে কারাগারের নিজস্ব প্রিজনভ্যানগুলোতে ইতোমধ্যে আইপি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বন্দি পরিবহনে ব্যবহৃত অধিকাংশ প্রিজনভ্যান বাংলাদেশ পুলিশের হওয়ায়, সেগুলোতেও উচ্চমানের আইপি ক্যামেরা সংযোজন এবং মনিটরিং ব্যবস্থায় কারা অধিদপ্তরকে সংযুক্ত করা জরুরি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
কারা অধিদপ্তরের মতে, সব প্রিজনভ্যানে আইপি ক্যামেরা স্থাপন ও যৌথ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হলে বন্দিদের অবৈধ কার্যকলাপ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বন্দি পরিবহন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হবে।