অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন আর আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সব মিলিয়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সিডনি মিশন এখন পর্যন্ত বেশ রোমাঞ্চকর। যদিও কোচ কিছুটা প্রস্তুতির ঘাটতির কথা বলেছিলেন, তবে দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজিম ও তরুণ ফরোয়ার্ড সৌরভী আকন্দ প্রীতির কণ্ঠে ঝরছে আত্মবিশ্বাসের সুর। আগামীকাল নারী এশিয়ান কাপের পর্দা উঠলেও বাংলাদেশের মূল লড়াই শুরু হবে ৩ মার্চ, শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে।
সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে অনুশীলনের পর মাঠের মান দেখে রীতিমতো মুগ্ধ শিউলি আজিম।বাংলাদেশের মাঠের তুলনায় এখানকার পিচ এবং ঘাসের গতি ও বাউন্স যে অনেক উন্নত, তা অকপটে স্বীকার করলেন তিনি। শিউলি বলেন, এখানকার মাঠগুলো আসলে বলে বোঝানো যাবে না, অনেক অনেক ভালো। সত্যি বলতে, আমাদের দেশেও যদি এমন উন্নত মাঠ থাকত, তবে আমরা আরও ভালো প্রস্তুতি নিতে পারতাম। এমন পিচে খেলতে পারাটা আলাদা একটা অভিজ্ঞতা।’
বিদেশের বড় দলগুলোর বিপক্ষে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ম্যাচ না পাওয়ার আক্ষেপ কোচের কণ্ঠে থাকলেও, খেলোয়াড়রা প্রাপ্ত সুযোগটিকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় একটি ক্লাবের বিপক্ষে খেলা প্রস্তুতি ম্যাচটি শিউলিদের চোখ খুলে দিয়েছে। শিউলি জানান, আমরা যাদের সাথে প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছি, তারা বিশ্বমানের লেভেলে খেলে। তাদের সাথে খেলে আমাদের মিস্টেকগুলো বুঝতে পেরেছি।
কোচ সেই মিস্টেকগুলো নিয়ে আলাদা ট্রেনিং সেশন করিয়েছেন। আমরা এখন আমাদের অবস্থানটা জানি।’
সিডনিতে পা রাখার পর প্রথম কয়েক দিন প্রচণ্ড গরমের কারণে খেলোয়াড়দের বেশ ধকল পোহাতে হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টি আবহাওয়াকে কিছুটা ঠান্ডা করে দেওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে দলে। শিউলি বলেন, আসার পর হিটের সাথে মানিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছিল, তবে এখন আমরা পুরোপুরি অ্যাডাপ্ট করে নিয়েছি।’ খাবার-দাবারের ব্যাপারেও কোনো ছাড় দিচ্ছেন না ফুটবলাররা। বিদেশের মাটিতে দেশি খাবারের খোঁজ না করে দলের ফিটনেস ট্রেনারের দেওয়া কঠোর চার্টই অনুসরণ করছেন তারা। শিউলি বলেন, আমাদের ফিটনেস ট্রেইনার খাবারের যে শিডিউল দিয়েছেন, আমরা সেটাই কঠোরভাবে মেনে চলছি।’
সিডনিতে ৩ মার্চ চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের এশিয়ান কাপ মিশন। এরপর ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়া এবং ৯ মার্চ পার্থে উজবেকিস্তানের মোকাবিলা করবে লাল-সবুজরা। জ্যামমুক্ত সিডনিতে প্রতিদিন ৪৫ মিনিটের ভ্রমণ শেষে প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে পৌঁছাতে হয় খেলোয়াড়দের, তবে সেই ভ্রমণ ক্লান্তি তাদের মনোবল একবিন্দুও কমাতে পারেনি।