ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রশিবিরের ছাত্র অধিকারবিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব ইমরোজ ২০২২ সালে সংগঠনটির ‘সাথী’ হওয়ার পরও ২০২৩ সালে ছাত্রদলের হল কমিটিতে পদ নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ছাত্রদলের মধ্যে ‘গুপ্ত’ থাকার অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদলের নেতারা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রদলের ২০২৩ সালের ৫ জুন অনুমোদিত একটি বর্ধিত কমিটির তালিকা আলোচনায় আসে। খোরশেদ আলম সোহেল ও আরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই কমিটিতে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ক্রীড়া সম্পাদক পদ পেয়েছিলেন আহসান হাবিব।
ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ হওয়ার পরও ছাত্রদলের হল কমিটিতে পদ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ইমরোজ। মঙ্গলবার বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার রাজনৈতিক যাত্রার বিষয়ে বিস্তারিত জানান।
ইমরোজ জানান, ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি ক্যাম্পাসে আসার পর ৭ জানুয়ারি থেকে ছাত্রদলের সঙ্গে রাজনীতি শুরু করেন তিনি। পরে ছাত্রশিবিরের হলের এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়ের পর থেকে সংগঠনটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা শুরু হয়।২০২২ সালের শেষের দিকে অথবা ২০২৩ সালের শুরুর দিকে তিনি ছাত্রশিবিরে যোগ দেন। ওই বড় ভাই তাকে ছাত্রশিবির সম্পর্কে বিভিন্ন বই দিতেন এবং তিনি সেগুলো পড়তেন।
ছাত্রশিবিরে সংগঠনের দলীয় পদ ছাড়াও ব্যক্তির নিজস্ব মান যাচাইয়ে কিছু স্তর নির্ধারিত রয়েছে। এসব স্তর হলো—সমর্থক, কর্মী, সাথী এবং সর্বশেষ সদস্য। পরীক্ষার মাধ্যমে প্রত্যেককে এসব স্তরে উত্তীর্ণ হতে হয়। উত্তীর্ণ হতে বিভিন্ন বইপত্র পাঠসহ একাধিক শর্ত রয়েছে।
ছাত্রশিবিরে কখন যোগ দিয়েছেন, তা স্পষ্ট করে বলতে না পারলেও ইমরোজ জানিয়েছেন, তিনি ২০২২ সালে ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ হন।
তবে ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ হলেও ২০২৩ সালে ছাত্রদলের হল কমিটিতে পদের জন্য নিজের সিভি জমা দিয়েছিলেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ছাত্রদলের হলের ক্রীড়া সম্পাদক পদ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ইমরোজ।
এদিকে, তিনি ছাত্রদল থেকেও পদত্যাগ করেননি। ইমরোজ জানান, ২০২৪ সালের নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের দিকে তিনি ছাত্রদলের হল কমিটির সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
তিনি বলেন, ‘আগস্ট-পরবর্তী সময়ে এবং তার আগেও ছাত্রদলের দলীয় শৃঙ্খলাসহ অনেকগুলো বিষয় নিয়ে আমার প্রশ্ন ছিল। আগস্টের পর চট্টগ্রামের এক আন্দোলনে ছাত্রদলের দ্বারা একজন খুন হয়। এটা আমাকে হিট করে। কিন্তু সিনিয়ররা বলেন, বড় সংগঠনে দুই-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতেই পারে। পরবর্তীতে এই জায়গা থেকে আমি অনুধাবন করেছি যে, এই যাত্রা এখানে সমাপ্ত করা উচিত। পরে আমি হলের সভাপতি আব্দুল জলিল আমিনুল ভাইয়ের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিই। নভেম্বর বা ডিসেম্বরের ২৩ বা ২৪ তারিখ। অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের সঙ্গে তো ফর্মালি পথচলা ছিলই।’
ইমরোজ জানান, ছাত্রলীগবিরোধী সব সংগঠনের কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণ ছিল। একপর্যায়ে শিবিরের সঙ্গে তার অংশগ্রহণ তৈরি হয়। তিনি ছাত্রশক্তির কর্মসূচিতেও যেতেন। তবে তার কোনো পদ ছিল না।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলের হওয়ার হীনমন্যতায় ভুগতাম, তাই সামনে গিয়ে বক্তৃতা দেওয়া হতো না।’
এত কম সময়ে ছাত্রশিবিরের এত বড় পদে কীভাবে এলেন জানতে চাইলে ইমরোজ বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের কাঠামো যদি লক্ষ্য করেন, এখানে আপনি কাজ কতটুকু করছেন বা কতটুকু সময় দিচ্ছেন, তা দেখা হয়। পদ-পদবি চাইতে হয় না। ত্যাগের ওপর ভিত্তি করেই পদ নির্ধারণ হয়।’
ইমরোজ বর্তমানে ছাত্রশিবিরের সদস্য। ছাত্রশিবিরের সমর্থক থেকে সদস্য হতে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। এ বিষয়ে ইমরোজ বলেন, ‘আমার ক্ষেত্রে সমর্থক ফর্ম পূরণ করতে হয়নি। আমাকে বই দেওয়া হতো, আমি পড়তাম। আমি ২০২২ সালের শেষের দিকে সাথী হয়েছি।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিতে এসে প্রকাশ্যে আসেন ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি। পরে পুরো কমিটিই প্রকাশ্যে আনা হয়।