বন্ধুপ্রতিম দেশ নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। একইসঙ্গে এই চরম দুর্যোগে দেশটিতে উদ্ধারকারী ও মেডিকেল টিম পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এ তথ্য জানানো হয়।
অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেন।এ সময় তিনি মহান সংসদের পক্ষ থেকে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানান।
চিফ হুইপ সংসদকে অবহিত করে বলেন, নেপালের এই চরম দুর্যোগে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্ধারকারী দল ও মেডিকেল টিম পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
পরে স্পিকারের মাধ্যমে নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। এ সময় নিহতদের স্মরণে মহান সংসদে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
নীরবতা পালন শেষে নেপালের বন্যায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।
তুষারধসের পর হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া প্রায় ১০০ মিটার উঁচু পানির ঢেউয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে নেপাল। চীনের তিব্বত অংশে তুষারধসের কারণে ভোটেকোশি নদীর একটি শাখা লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে যায়।
পরে সেই বাধা ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, পাথর ও কাদা নেমে এসে তছনছ করে দিয়েছে নদীর তীরবর্তী জনপদ। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫৯ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ হাজারের মতো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।
নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক ও নিরাপত্তাকর্মীরাও রয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুওয়াগাড়ির কাছে তিমুরে প্রথম আঘাত হানে ভয়াবহ এই পানির স্রোত।