বিতর্ক, কটাক্ষ আর একের পর এক কাজ হারানোর সেই কঠিন সময় যেন আজও তাড়া করে বেড়ায় বলিউড অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহিকে। ২০০ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের মামলায় কারাবন্দি প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর যে মানসিক যন্ত্রণা পোহাতে হয়েছিল, সেই স্মৃতি মনে করে সম্প্রতি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন নোরা।কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী।
সুকেশের সঙ্গে নোরার নাম জড়ানোর পর থেকেই তাকে ঘিরে শুরু হয়েছিল নানা আলোচনা ও বিতর্ক।অভিনেত্রীর দাবি, ওই ঘটনা শুধু তার ভাবমূর্তিতেই প্রভাব ফেলেনি, ব্যক্তিগত জীবন থেকে পেশাগত ক্যারিয়ার- সবকিছুতেই বড় ধাক্কা দিয়েছিল।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে নোরা বলেন, ‘ওই সময়টা কোনও দিন ভুলব না।প্রচণ্ড ভাবে ভেঙে পড়েছিলাম।’
অভিনেত্রীর দাবি, বিতর্কের জেরে একাধিক বিজ্ঞাপনের কাজ এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রচারমূলক কাজ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।একের পর এক পেশাগত সুযোগ হাতছাড়া হতে থাকায় মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি।
নোরার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা তাকে ভালোভাবে চিনলেও সাধারণ মানুষের একাংশ তার সম্পর্কে ছড়িয়ে পড়া নানা কথাকেই সত্যি বলে ধরে নিয়েছিল বলে মনে করেন অভিনেত্রী।
সুকেশের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল- এমন ধারণা এখনও অনেকের মধ্যে রয়েছে বলেও জানান নোরা। তবে অভিনেত্রীর দাবি, এই গুঞ্জনের কোনো সত্যতা নেই।
সুকেশের পরিবারের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে দেখা করা এবং তার কাছ থেকে গাড়িসহ বিভিন্ন উপহার নেওয়ার প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন নোরা। তার বক্তব্য, সেই সময় পুরো ঘটনার নেপথ্যে থাকা বৃহত্তর পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না।
মামলার তদন্তের সময় ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল নোরাকে। সেই অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, প্রায় দু’বছর ধরে চলা সেই পর্ব ছিল অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। ওই সময় নিজেকে একা, অসহায় ও বিভ্রান্ত মনে হতো তার।
নোরা বলেন, ‘আমি সত্যিই কোনও সাহায্য পাইনি। কীভাবে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসব, তা বুঝতে পারছিলাম না।’
সুকেশের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়াটাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন নোরা। তার দাবি, সত্যিটা না জেনেই অনেকে তাকে বিচার করতে শুরু করেছিলেন।
সেই সময় নিজেকে ভীষণ একা, বিভ্রান্ত এবং মানুষের নিষ্ঠুরতার মুখে অসহায় মনে হতো বলে জানান অভিনেত্রী। অতীতের সেই কঠিন অধ্যায়ের কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে আর নিজেকে সামলাতে পারেননি নোরা। চোখে পানি নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।
তার কথায়, ওই অভিজ্ঞতা শুধু একটি বিতর্ক ছিল না; তার ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবন- দুই ক্ষেত্রেই রেখে গেছে গভীর ক্ষত।
বিতর্কের ঝড় থেমেছে, সময়ও পেরিয়ে গেছে। কিন্তু সেই সময়ের একাকিত্ব আর অসহায়ত্বের স্মৃতি যে এখনও নোরার মনে কতটা গভীর দাগ কেটে আছে, সাক্ষাৎকারে কান্নায় ভেঙে পড়াই যেন তার প্রমাণ।