ছেলে ইয়াসিন খান পলাশ হত্যার বিচার, আসামিদের গ্রেপ্তার এবং পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন নিহতের মা আমেনা বেগম। একইসঙ্গে আসামিপক্ষের বিরুদ্ধে তাকে ও তার স্বজনদের হত্যার হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানি করে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ করেন তিনি।
শনিবার (২২ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আমেনা বেগম বলেন, গত ১২ জুন শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে তার ছেলে ইয়াসিন খান পলাশ বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়।এ সময় খুব কাছ থেকে পলাশের মাথায় গুলি করা হয়।
তিনি বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে পলাশকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২০ জুন মারা যান।
আমেনা বেগম বলেন, তার একমাত্র ছেলে ইয়াসিন খান পলাশ এলাকায় ঠিকাদারি ও ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে হিসাব নিয়ে কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে তিনি জানতে পারেন। পলাশ ও তার দুই বন্ধু হাসান ও মিরাজের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল ‘মেসার্স থ্রি ভিউ এন্টারপ্রাইজ’।
তার অভিযোগ, ব্যবসা, এলাকায় আধিপত্য ও বিভিন্ন বিরোধকে কেন্দ্র করে পলাশের বিরুদ্ধে একটি পক্ষ সক্রিয় হয়ে ওঠে। পরে কয়েকজন ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সহযোগিতায় তার ছেলেকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, পলাশ গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় তার স্ত্রী মাহমুদা খানম ইভা গত ১৩ জুন হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া পলাশের মৃত্যুর পর গত ৯ জুলাই তিনি আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে ডিবির তদন্তাধীন রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
নিহতের মা অভিযোগ করেন, দুটি মামলার তদন্ত অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা করা হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
আমেনা বেগম বলেন, ছেলে হত্যার বিচার চাওয়ার পর থেকে তাকে ও তার স্বজনদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, তার ছেলে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তার ও পরিবারের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।