কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষ অবদান রাখা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি দিতে ‘জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার ২০২৬’-এর জন্য আবেদন আহ্বান করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। আগ্রহী উদ্যোক্তারা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতি বছর উন্মুক্ত আবেদনের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট মানদণ্ড ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বাধীন জুরি বোর্ডের মাধ্যমে যোগ্য উদ্যোক্তা নির্বাচন করে এসএমই ফাউন্ডেশন।নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের নগদ অর্থের পাশাপাশি ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হয়। চলতি বছরের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
এবার মোট আটটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হবে। ক্যাটাগরিগুলো হলো-বর্ষসেরা মাইক্রো উদ্যোক্তা (পুরুষ ও নারী), বর্ষসেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা (পুরুষ ও নারী), বর্ষসেরা মাঝারি উদ্যোক্তা (পুরুষ ও নারী), বর্ষসেরা স্টার্টআপ এবং গ্রিন এসএমই বিজনেস।পুরুষ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথকভাবে পুরস্কার নির্ধারিত থাকায় যোগ্য উদ্যোক্তারা সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারবেন।
পুরস্কারের জন্য শুধু উৎপাদন ও সেবামূলক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তাদের বিবেচনা করা হবে। ট্রেডিং বা আমদানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তারা আবেদন করতে পারবেন না। আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক এবং শিল্পনীতি ২০২২-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী মাইক্রো, ক্ষুদ্র বা মাঝারি শ্রেণির উদ্যোক্তা হতে হবে। কুটির ও বৃহৎ শিল্পের উদ্যোক্তারা এ পুরস্কারের আওতায় পড়বেন না।
স্টার্টআপ ক্যাটাগরি ছাড়া অন্যান্য ক্যাটাগরির উদ্যোক্তাদের ট্রেড লাইসেন্স অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনায় কমপক্ষে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ঋণখেলাপি ও করখেলাপি উদ্যোক্তাদের আবেদন বিবেচনা করা হবে না। সৃজনশীল, অপ্রচলিত, রপ্তানিমুখী, পরিবেশবান্ধব এবং বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এসএমই ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এটি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নয়; মূলত উদ্যোক্তা ব্যক্তির পুরস্কার। ফলে উদ্যোক্তাকে তাঁর মালিকানাধীন নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিপরীতে আবেদন করতে হবে। অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অন্য অংশীদারদের নাম, ফোন নম্বর এবং তাঁদের সম্মতিপত্র অথবা এ বিষয়ে সভার রেজ্যুলেশন জমা দিতে হবে। একাধিক ব্যবসা থাকলে যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে আবেদন করা যাবে এবং প্রতিটি ক্যাটাগরিতে একজন উদ্যোক্তাকেই বিজয়ী হিসেবে মনোনীত করা হবে।
মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ট্রেডবডি, অ্যাসোসিয়েশন, উদ্যোক্তা সংগঠন, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এনজিও সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার সম্মতি নিয়ে সুপারিশসহ আবেদন করতে পারবে।
আবেদনের সফট কপি এসএমই ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পাওয়া যাবে। আবেদনপত্র ডাউনলোড করে পূরণের পর ই-মেইল, ডাক বা কুরিয়ারের মাধ্যমে এসএমই ফাউন্ডেশনে পাঠানো যাবে। এ ছাড়া অনলাইনে সরাসরি আবেদনপত্র পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথি আপলোডের সুযোগও রয়েছে।
আবেদনের সঙ্গে পাসপোর্ট সাইজের ছবি, হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন ও ভ্যাট নিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আয়কর জমার রশিদ জমা দিতে হবে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিগত তিন বছরের নিরীক্ষিত হিসাব-বিবরণী বা অডিট রিপোর্ট দিতে হবে। পাশাপাশি বিএসটিআই সনদ, ফায়ার লাইসেন্সসহ অন্যান্য আইনগত সনদ এবং প্রতিষ্ঠানের ব্রোশিউর, ক্যাটালগ বা কারখানার ছবিও দেওয়া যাবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওয়া আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিক তালিকা তৈরি করবে এসএমই ফাউন্ডেশন। এরপর নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত আবেদন নেওয়া হবে। স্বাধীন জুরি বোর্ড সরেজমিন পরিদর্শন, সাক্ষাৎকারসহ সার্বিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচন করবে।
এসএমই ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে উদ্যোক্তাদের অবদান ও অংশগ্রহণের স্বীকৃতি এবং তাদের উৎসাহ দিতে জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৬৩ জন উদ্যোক্তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৫ জন নারী, ২৭ জন পুরুষ এবং একজন তৃতীয় লিঙ্গের উদ্যোক্তা রয়েছেন।