বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থাকে বেগবান করতে কৌশলগত অংশীদারিত্বে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (বাইডেক)।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
বিজিএমইএর পক্ষে সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান এবং বাইডেকের পক্ষে প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের হয়ে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর পরিচালক শাহ রাইদ চৌধুরী, এনার্জি অপটিমাইজেশন কমিটির উপদেষ্টা ও ডিকার্বনাইজেশন কমিটির কো-চেয়ার কামরান সাদিক, সাসটেইনেবল এনার্জি কমিটির চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান, এনার্জি অপটিমাইজেশন কমিটির চেয়ারম্যান নিশাত হামিদ এবং বাইডেকের প্রধান ব্যবসা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মুয়িদ হাসান উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী শিল্পকারখানায় বহুল ব্যবহৃত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পুরনো ক্যাপাসিটর-টাইপ সিলিং ফ্যানগুলোকে ফেলে না দিয়ে বাইডেকের পেটেন্টকৃত ‘মাইক্রো সাসটেইনেবল আপসাইক্লিং’ প্রযুক্তির সাহায্যে সর্বাধুনিক বিএলডিসি ফ্যানে রূপান্তর করা। এর ফলে ফ্যান প্রতি বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে।
বিজিএমইএর তদারকিতে ৪২টিরও বেশি সদস্য কারখানায় এই প্রযুক্তির ওপর ফিল্ড ট্রায়াল চালানো হয়। ট্রায়ালের ফলাফলে দেখা যায়, আপসাইক্লিং করার পর কারখানায় ৪৭ থেকে প্রায় ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান বলেন, দেশীয় তরুণ উদ্যোক্তা ও স্থানীয় উদ্ভাবন যে আমাদের শিল্প খাতের বড় চ্যালেঞ্জের সমাধান দিতে পারে, এই উদ্যোগ তারই উৎকৃষ্ট প্রমাণ। ৪২টি কারখানায় প্রাপ্ত সফলতা নিশ্চিত করেছে যে, এই প্রযুক্তি পরিচালনা ও বিদ্যুৎ খরচ কমানোর এক দারুণ সুযোগ। এটি কেবল ডিকার্বনাইজেশন ও টেকসই উন্নয়ন যাত্রাকে দ্রুত করবে না, বরং বৈশ্বিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
বিজিএমইএর পরিচালক শাহ রাইদ চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও জ্বালানি দক্ষতা এখন শুধু পরিবেশ রক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি ব্যবসার টিকে থাকার প্রধান শর্ত। দেশীয় এই প্রযুক্তি যদি প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে বিনিয়োগকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনে, তবে তা উদ্যোক্তাদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষনীয় একটি সমাধান। দেশজুড়ে এটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের ওপর চাপ কমবে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আসন্ন কঠোর পরিবেশ ও সাপ্লাই চেইন ডিউ ডিলিজেন্স নীতিমালা বাস্তবায়নে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের টেকসই উৎপাদনের চাহিদা পূরণ এবং শিল্পখাতে বিদ্যুতের অপচয় কমিয়ে দেশের সবুজ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এটি অগ্রণী অবদান রাখবে।