যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে চালু হচ্ছে অজুর স্থান

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে চালু হচ্ছে অজুর স্থান

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস-ফোর্ট ওর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের জন্য অজুর বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিমানবন্দরের ডি টার্মিনালের বিদ্যমান শৌচাগারের পাশে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক অজুর স্থান তৈরি করা হবে।চলতি বছরের শেষ নাগাদ এর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট।প্রকল্পটি গত ৩১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করা হয়। এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ডলার এবং ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো, মুসলিম যাত্রীদের অজু করার সময় সাধারণ বেসিনে পা ধোয়ার কারণে মেঝে ভিজে যাওয়া এবং বেসিনের ক্ষতি ঠেকানো। এ জন্য সাধারণ বেসিনের তুলনায় নিচু উচ্চতার বিশেষ অজুর ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে যাত্রীরা সহজে পা ধুতে পারেন এবং পানি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমে।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও এর আগে এ ধরনের অজুর ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ফলে ডালাস-ফোর্ট ওর্থ বিমানবন্দরেও মুসলিম যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নতুন এই ব্যবস্থা যুক্ত হচ্ছে।

অজুর ব্যবস্থা অবশ্য পুরোপুরি নতুন নয়

তবে ডালাস-ফোর্ট ওর্থ বিমানবন্দরে অজুর ব্যবস্থা একেবারে নতুন নয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, টার্মিনাল ডির গেট ডি৪০-এর কাছে থাকা আন্তধর্মীয় প্রার্থনাকেন্দ্রে ২০১৯ সালে দুটি অজু করার স্থান স্থাপন করা হয়েছিল। প্রার্থনাকেন্দ্রটি ওই বছর সংস্কার ও সম্প্রসারণের পর আবার চালু করা হয়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই আন্তধর্মীয় প্রার্থনাকেন্দ্রটি বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের জন্য উন্মুক্ত। সেখানে মুসলিম যাত্রীদের নামাজ ও ধর্মীয় পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

ডালাস-ফোর্ট ওর্থ বিমানবন্দর আন্তধর্মীয় চ্যাপেল কর্তৃপক্ষের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, টার্মিনাল ডির গেট ডি৪০-এর কাছে থাকা কেন্দ্রটিসহ বিমানবন্দরের পাঁচটি টার্মিনালেই প্রার্থনাকেন্দ্র রয়েছে।

কেন আলাদা অজুর ব্যবস্থা?

মুসলিমদের নামাজের আগে অজু করা ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিমানবন্দরের মতো ব্যস্ত স্থানে সাধারণ বেসিনে পা ধোয়া হলে পানি মেঝেতে পড়ে পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বেসিন ও আশপাশের জায়গারও ক্ষতি হতে পারে।

নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনায় নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা অজুর স্থান রাখার কথা বলা হয়েছে।

ডালাস-ফোর্ট ওর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। ফলে মুসলিম যাত্রীদের ধর্মীয় প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের সুবিধা বাড়ানোকে যাত্রীসেবার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

২০১৯ সালে টার্মিনাল ডির আন্তধর্মীয় প্রার্থনাকেন্দ্র পুনরায় চালুর সময়ই সেখানে দুটি অজু স্টেশন যুক্ত করা হয়েছিল-বিমানবন্দরের নিজস্ব তথ্যেই যার উল্লেখ রয়েছে। নতুন প্রকল্পটি মূলত সাধারণ শৌচাগার এলাকায় অজুর সুবিধা আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ।

সূত্র: ফক্স নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS