যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে খুন হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের দাফন নিজ গ্রামে সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) রাত ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে জামালপুরের মাদারগঞ্জের লালডোবা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে ছোট দাদুর কবরের পাশে লিমনের দাফন সম্পন্ন হয়।পরে লিমনের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করা হয়।
এর আগে বাড়ির পাশে লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাদ মাগরিব লিমনের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, লিমনের আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধু -বান্ধবসহ স্থানীয় গ্রামবাসী অংশ নেয়।
সোমবার বিকেল ৩টা ১২ মিনিটের দিকে লিমনের লাশ বহনকারী ফ্রিজিং গাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জের লালডোবাতে পৌঁছায়।লিমনের লাশ দেখতে ভিড় জমায় আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা। এ সময় পুরো গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।
গত ১৬ এপ্রিল হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন লিমন। একই সময় নিখোঁজ হন তার পরিচিত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭)। কয়েকদিন কোনো খোঁজ না পেয়ে এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানালে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার একটি সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে আবর্জনার ব্যাগের ভেতর লিমনের লাশ উদ্ধার করা হয়। লিমনের দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এর আগে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে তার লাশ ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।
একই দিন পিএইচডির শিক্ষার্থী বাংলাদেশি নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিও নিখোঁজ হন। গত রোববার ফ্লোরিডার আই-২৭৫ ও ফোর্থ স্ট্রিট নর্থ সংলগ্ন জলাশয় থেকে বৃষ্টির লাশের অংশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট ২৪ বছর বয়সী মার্কিন তরুণ হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির দুটি হত্যার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে দুই বছর আগে স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করতে যান লিমন।
দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনিই বড়। তার বাবা জহুরুল হক গাজিপুরের একটি টেক্সটাইল কারখানায় চাকরি করেন। এজন্য স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে সেখানেই থাকেন তিনি।