ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে এখন টি-টোয়েন্টি মিশনে নামার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বাংলাদেশ দল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের এই সিরিজ শুরু হচ্ছে সোমবার।প্রথম দুই ম্যাচ চট্টগ্রামে হলেও শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকায়। সিরিজ শুরুর আগে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের সাগরিকা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক অনুশীলনে নামে লিটন দাসের দল।অনুশীলনে দলকে দেখে মনে হয়েছে একদম ‘সুখী পরিবার’।
স্কোয়াডে প্রথমবার ডাক পাওয়া রিপন মন্ডল ও আব্দুল গাফফারের জন্য এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে প্রথম অনুশীলন।তবে তাদের মধ্যে কোনো জড়তা চোখে পড়েনি। অধিনায়ক লিটন দাস নতুনদের জন্য পরিবেশটাকে সহজ করে তুলেছেন।দলের প্রতিটি সদস্যের সঙ্গে তার যোগাযোগও বেশ দৃঢ়। এমনকি আনুষ্ঠানিক দল ঘোষণার আগেই রিপন ও সাকলাইনকে প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন লিটন। যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে নিশ্চিত ভাবেই।
অনুশীলনের শুরুটা ছিল নিয়মিত স্কিল ট্রেনিং দিয়ে, তবে সময় যত গড়িয়েছে, ততই মজা আর খুনসুটিতে মেতে ওঠেন ক্রিকেটাররা। মিডিয়ার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নতুন দুই মুখ রিপন ও সাকলাইন। পুরো সময়জুড়ে তাদের হাসিখুশি উপস্থিতি নজর কেড়েছে, বিশেষ করে সাকলাইনের মুখে লেগেই ছিল হাসি।
দিনের শেষ ভাগে অনুশীলনে যুক্ত হয় ভিন্ন মাত্রা। পেসারদের জন্য আয়োজন করা হয় ইয়র্কার প্রতিযোগিতা। স্ট্যাম্পের সামনে জুতা পিন করে সেটিকেই লক্ষ্য বানিয়ে বল করতে বলা হয় বোলারদের। শরিফুল ইসলাম ইয়র্কার করতে গিয়ে একটি বড় নো-বল করে বসলে অধিনায়ক লিটন তা নিয়ে মজাও করেন। একে একে সবাই অংশ নিলেও সবচেয়ে সফল ছিলেন সাকলাইন। নিখুঁত ইয়র্কার করে তিনি জিতে নেন আর্থিক পুরস্কার।
তবে পুরস্কার জয়ের পরই নজর কাড়েন তিনি অন্যভাবে। অধিনায়ক লিটনের পরামর্শে সেই অর্থ মাঠকর্মীদের মধ্যে বিলিয়ে দেন এই তরুণ পেস বোলিং অলরাউন্ডার। তার এই উদ্যোগ দলের ভেতরে ইতিবাচক আবহ আরও জোরদার করে।
ইয়র্কার করার পর সেলিব্রেশনেও ছিল চমক। স্ট্যাম্পের সামনে জুতার ঠিক গোড়ায় বল লাগানোর পর পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিখ্যাত ‘সিউ’ সেলিব্রেশন করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সাকলাইন। তার এই উদযাপন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে পুরো দলে। সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত ছিলেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি, দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরেন সতীর্থকে। অন্যরাও হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানান।
দিনের শেষ দিকে কঠোর অনুশীলনের মধ্যেও যে প্রাণচাঞ্চল্য আর বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ ছিল, সেটিই যেন বড় বার্তা দিয়েছে যে, এই দলটা ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে একটি ঐক্যবদ্ধ ইউনিট হিসেবে। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে লিটনের দল হয়ে উঠছে এক আত্মবিশ্বাসী ও প্রাণবন্ত স্কোয়াড।
জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার খবরটি সাকলাইন পেয়েছিলেন রাজশাহীতে বিসিএলের ম্যাচ খেলতে থাকা অবস্থায়। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের পথ পেরিয়ে নয়, টেপ টেনিস ক্রিকেট দিয়েই তার যাত্রা শুরু। সাম্প্রতিক বিপিএলে ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে নিউজিল্যান্ড সিরিজের দলে জায়গা পেয়েছেন সৈয়দপুরের এই ক্রিকেটার। বোলিংয়ের পাশাপাশি দ্রুত রান তোলার সামর্থ্যও রয়েছে তার।
আজকের অনুশীলনের পর সাকলাইনের কাছে প্রশ্ন রাখা হয় কেমন গেল পুরো দিনটি,? শুধু এক কথায় জানালেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, দোয়া করবেন।’