সরকার পরিবর্তনের ধাক্কায় দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন আবাহনী লিমিটেডের বর্তমান চিত্র বেশ হতাশার। ক্লাব কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ বন্ধ, জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে অবকাঠামো, এমনকি চুরি গেছে অনেক মূল্যবান ট্রফিও।পরিচালকদের অনুপস্থিতিতে ক্লাবের দৈনন্দিন কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা। তবে মাঠের খেলায় ফুটবল ও ক্রিকেটে দলটি কোনোরকমে নিজেদের ধারাবাহিকতা টিকিয়ে রেখেছে।এই সংকটময় পরিস্থিতিতে শনিবার (২৫ এপ্রিল) আবাহনী ক্লাবে পরিদর্শনে গিয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ক্লাবের সাবেক তারকা খেলোয়াড় আমিনুল হক।
সাবেক এই তারকা খেলোয়াড়কে ক্লাবে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন বর্তমান ও সাবেক খেলোয়াড়রা।ফুল ও ক্লাবের জার্সি উপহার দিয়ে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। আবেগঘন পরিবেশে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখন থেকে আবাহনীসহ দেশের কোনো ক্লাবই রাজনীতির শিকার হবে না।
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে আবাহনী ও দেশের অন্যান্য ক্লাবগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। অতীত নিয়ে না ভেবে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।’ দেশের ফুটবলের উন্মাদনা ও ঐতিহ্য যে আবাহনী-মোহামেডানকে ঘিরেই আবর্তিত হয়, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
ক্লাব বাঁচলে যে খেলোয়াড়রা বাঁচবে, এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন আমিনুল হক। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি জানান, বর্তমান সরকার এরই মধ্যে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে পেশাগত স্বীকৃতি দিয়ে ক্রীড়া ভাতার আওতায় এনেছে। আগামী অর্থবছরে এই সংখ্যা ৫০০ জনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

পাশাপাশি তৃণমূল থেকে প্রতিভা তুলে আনতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজনের ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী সিলেটের মাটি থেকে দেশব্যাপী (৬৪ জেলায়) ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের জন্য এই মেগা ক্রীড়া আসরের উদ্বোধন করবেন।
দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলোর বর্তমান আর্থিক দৈন্যদশা ও খেলোয়াড়দের বকেয়া বেতনের বিষয়টিও সরকারের নজরে রয়েছে বলে জানান আমিনুল। পরিদর্শনে উপস্থিত মোহামেডানের কর্মকর্তা লোকমান হোসেনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অনেক ক্লাবই অর্থাভাবে পারিশ্রমিক দিতে পারছে না। শুধু আবাহনী নয়, পর্যায়ক্রমে মোহামেডান, বসুন্ধরা কিংসের মতো ক্লাবগুলোর সঙ্গে বসে তাদের পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আবাহনীকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ক্লাবের নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। তিনি উপস্থিত ক্লাব কর্তাদের দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অন্যান্য কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করুন, আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, আবাহনীর পরিচালক তানভীর মাযহার তান্না, অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, বশির আহমেদ মামুন ও ফাহিম সিনহা। এছাড়া ইকবাল হোসেন, আব্দুল গাফফার, মাহবুব হারুন ও জাকির হোসেনের মতো আবাহনীর সাবেক কিংবদন্তিরাও এসময় উপস্থিত থেকে ক্লাবের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার বিষয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন।