রানা প্লাজা ভবন ধসের ১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে শ্রমিকদের ন্যায্য বিচার, ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এ সভার আয়োজন করে ব্লাস্ট (বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট) ও লডেস ফাউন্ডেশন।
সভায় বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিলের ভয়াবহ রানা প্লাজা ধসে নিহত ১ হাজার ১৩৬ শ্রমিককে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হলেও এখনো অনেক ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত। পোশাক খাতে কিছু উন্নতি হলেও অন্যান্য শিল্পখাতে শ্রমিক নিরাপত্তা এখনও মারাত্মকভাবে উপেক্ষিত।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা সেই বাস্তবতাই তুলে ধরছে।
বক্তারা বলেন, দেশে শ্রমিক সুরক্ষায় একাধিক আইন থাকলেও এর বাস্তব প্রয়োগে রয়েছে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা।বিশেষ করে শ্রম আইন, বিল্ডিং কোড ও অগ্নি নিরাপত্তা আইন থাকা সত্ত্বেও তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাব প্রকট।
সভায় থেকে বলা হয়, বর্তমান আইনে দুর্ঘটনায় নিহত বা আহত শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ অত্যন্ত কম এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।এমনকি সাম্প্রতিক সংশোধনীতেও এই বিষয়টি উপেক্ষিত রয়ে গেছে।
মতবিনিময় সভায় শ্রম মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, গবেষক ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, সভার মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিদ্যমান আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাবনা তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায় এবং ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত ন্যায্য অধিকার পান।
মতবিনিময় সভার গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশসমূহ-
রানা প্লাজা সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি, ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত কর, শ্রমিক আইন সহায়তা সেলকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা, আহত শ্রমিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিশেষায়িত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য টেকসই পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।