বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টনে বইছে নতুন সম্ভাবনার হাওয়া। বিদেশের মাটিতে অনূর্ধ্ব-১৫, ১৭ এবং ২৩– এই তিন ক্যাটাগরিতে এখন পর্যন্ত মোট ৫টি স্বর্ণপদক জয় করে ইতিহাস গড়েছেন লাল-সবুজের শাটলাররা।সর্বশেষ পাকিস্তানে অনূর্ধ্ব-২৩ ক্যাটাগরিতে সোনা জিতে দেশের ব্যাডমিন্টনকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন সিফাত উল্লাহ গালিব ও নাজমুল হাসান জয় জুটি।
সদ্যই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে কোচ মোস্তফা জাভেদের অধীনে অনূর্ধ্ব-২৩ ক্যাটাগরিতে প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক জয় করেছে বাংলাদেশ।টুর্নামেন্টের ফাইনালে সিফাত উল্লাহ গালিব ও নাজমুল হাসান জয় জুটি নেপালের প্রিন্স দাহাল ও ক্রিস্তিজ কাহাল জুটিকে হারিয়ে এই গৌরব অর্জন করেন। এটি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয়বারের মতো স্বর্ণ জয়ের ঘটনা।
এর আগে ২০২৩ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ব্যাডমিন্টন এশিয়া-সাউথ এশিয়ান রিজিওনাল ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে বাজিমাত করেছিল বাংলাদেশ। কোচ অহিদুজ্জামান রাজুর শিষ্যরা সেবার অনূর্ধ্ব-১৭ ক্যাটাগরিতে দুটি এবং অনূর্ধ্ব-১৫ ক্যাটাগরিতে একটি স্বর্ণপদক জয় করেন।ওই আসরে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়ে সর্বোচ্চ তিনটি স্বর্ণ, দুটি রৌপ্য ও চারটি ব্রোঞ্জপদক ঘরে তোলে।

কাঠমান্ডুতে অনূর্ধ্ব-১৭ বালক এককে শ্রীলঙ্কার থিদাসা ওয়েরাঙ্গোদাকে হারিয়ে স্বর্ণ জেতেন সিফাত উল্লাহ গালিব। একই ক্যাটাগরির বালক দ্বৈতে নেপালের কবির কেসি ও অভয় মাহারা জুটিকে হারিয়ে সোনা জেতে গালিব ও রাজন জুটি। এছাড়া অনূর্ধ্ব-১৫ বালক এককে স্বদেশী মোস্তাকিম হোসেনকে হারিয়ে স্বর্ণপদক গলায় পরেন ওয়ালি উল্লাহ।
বিদেশের মাটিতে জুনিয়র শাটলারদের এই স্বর্ণপদক প্রাপ্তির শুরুটা হয়েছিল ২০২২ সালে কোচ শিব্বির আহমেদের হাত ধরে। ভারতের গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব-১৫ ডাবলসে মোস্তাকিম ও সিফাত উল্লাহ গালিব ভারতের প্রতিযোগীদের হারিয়ে প্রথমবারের মতো দেশের হয়ে স্বর্ণপদক জয় করেন। সেটিই ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জুনিয়রদের সাফল্যের সূচনা।
ধারাবাহিকভাবে বিদেশের মাটিতে এই সাফল্য বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টনের জন্য এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।