বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, গুণী মানুষদের সামনে আনা, সম্মানিত করা এবং তাদের অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, কবি সাহিত্যিক মাহমুদ হাসান ছিলেন এমনই একজন মানুষ, যিনি রাজনীতি, সাহিত্য, কবিতা, সাংবাদিকতা ও গবেষণায় নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে লেখক,গবেষক সাহিত্য পরিষদ আয়োজিত শোক সভায় তিনি এসব কথা বলেন
দুদু বলেন, মাহমুদ হাসান একসময় রাঙামাটি জেলা কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটিতে ছিলেন, কেন্দ্রীয় কমিটিতেও ছিলেন।
তাকে নিয়ে কথা বলতে গেলে অনেক কথা বলতে হয়—কখনো আবেগ আসে, কখনো তৃপ্তি আসে। তিনি এমন একজন মানুষ, যাকে সাহিত্য, কবিতা, রাজনীতি ও মানবিকতার প্রশ্নে অনুসরণ করলে যে কেউ মানুষের মধ্যে প্রশংসিত হতে পারবেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার স্বৈরাতন্ত্রের বিরুদ্ধে মাহমুদ হাসান শুধু রাজনৈতিকভাবে বিরোধিতা করেননি; সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কবি হিসেবেও বিভিন্ন লেখার মধ্য দিয়ে তিনি স্বৈরাচার ও অগণতান্ত্রিক শাসনের বিরোধিতা করেছেন। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে, জেলও খাটতে হয়েছে।
সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, মাহমুদ হাসানও নিজের কষ্ট নিজেই ধারণ করতেন। খুব কম মানুষের সঙ্গে তিনি নিজের কষ্ট ভাগ করতেন। নিজের অনুভূতি, ভাবনা ও যন্ত্রণা তিনি সাহিত্যের মধ্য দিয়ে, কবিতার মধ্য দিয়ে, লেখালেখির মধ্য দিয়ে প্রকাশ করতেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এখন অনেকেই ভালোভাবে পড়াশোনা তো দূরের কথা, ভালো করে আড্ডাও দিতে পারেন না। কিন্তু মাহমুদ হাসান যেকোনো মজলিস একাই মাতিয়ে রাখতে পারতেন। তার সঙ্গে যারা মিশেছেন, যারা চলেছেন, তারা কখনো মন খারাপ করে বসে থাকেননি। তিনি কখনো জড়তার মধ্যে থাকতেন না।
তিনি আরও বলেন, কৃষক আন্দোলনে তিনি দেখেছেন, গ্রাম থেকে গ্রামে, শহর থেকে শহরে মাহমুদ হাসানকে যখন যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি তা দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন। মানুষের সঙ্গে এত নিবিড়ভাবে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা আল্লাহ তাকে দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, এ সংগঠনকে তিনি ধন্যবাদ জানান, কারণ মানুষ মৃত্যুর পর হঠাৎ করেই তার অনেক কিছু যেন ভুলে যায়। কিন্তু আজকের এ স্মরণসভা মাহমুদ হাসানকে স্মরণ করার একটি সুযোগ তৈরি করেছে। কেউ তার সম্পর্কে বেশি বলছেন, কেউ কম বলছেন, কেউ কবিতা আবৃত্তি করছেন—এসবের মধ্য দিয়েই একজন মানুষকে স্মরণ করা হয়।
ছাত্রদলের সাবেক এ সভাপতি বলেন, মাহমুদ হাসানকে অল্প কথায় বলা কঠিন, অল্প সময়ে তার স্মৃতিচারণ করাও কঠিন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ছাত্রজীবন থেকেই তাকে দেখে আসছেন। রাজনীতির নানা চাপের সময় থেকেই তিনি মাহমুদ হাসানকে কাছ থেকে দেখেছেন।
তিনি বলেন, পরিপূর্ণ বয়সে তার মৃত্যু হয়েছে—এ কথা বলব না। হঠাৎ করেই তিনি আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন। আল্লাহ হয়তো সেটিই নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। এটা আমাদের মানতে হবে।
দুদু বলেন, মাহমুদ হাসান শুধু বাংলা ভাষায় লিখেছেন, এমন নয়। তিনি শুধু একটি বই লিখেছেন, এমনও নয়। তিনি একাধিক বই লিখেছেন, একাধিক ভাষায় লিখেছেন, একাধিক বিষয়ে লিখেছেন। তিনি শুধু কবি ছিলেন না; সাংবাদিকতাও করেছেন, রাজনীতি করেছেন, সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় গবেষণাও করেছেন। অর্থাৎ, তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার একজন মানুষ।
তিনি বলেন, আজ অনেক বক্তা তার জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি তুলেছেন। এ দাবি অমূলক নয়, এটি তার প্রাপ্য। মাহমুদ হাসান কখনো স্বীকৃতির প্রত্যাশায় কোনো কাজ করেছেন বলে তার মনে হয় না। তিনি তার মতো করে কবিতা লিখেছেন, গবেষণা করেছেন, মানুষের ভেতরের মানুষের কথাগুলো ছড়িয়ে দিয়েছেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে সেসব মানুষকে সামনে আনা, সম্মানিত করা। যাতে এ গুণী মানুষগুলোর অনুপ্রেরণায় আরও গুণী মানুষ সৃষ্টি হয়। সেজন্য তার প্রাপ্য সম্মান এবং যেটি তার পাওনা, সেটি সরকার করবে—আমিও আপনাদের সঙ্গে এক। আমার পক্ষে যতটা করার, বলার, যেখানে যেখানে যাওয়ার দরকার, আমি যাব।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম ও বিভিন্ন পর্যায়ের কবি ও সাহিত্যিকরা।