দেশে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। এ রোগের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ বিভাগীয় শহরে বর্তমানে ৪৬৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ২৬, খুলনায় ১০০, সিলেটে ২৪, বরিশালে ৩৭ জন ও রাজশাহী ২৮০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
বাংলানিউজের ব্যুরো অফিস, সিনিয়র ও স্টাফ করেসপন্ডেন্টদের পাঠানো খবর–
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৬ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী ভর্তি হয়েছেন।তবে একই সময়ে জেলার ১৫টি উপজেলায় নতুন কোনো রোগী ভর্তির তথ্য পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম জেলায় হামের সংক্রমণ নিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, জেলায় এখন পর্যন্ত ৫৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার এনপিএমএল ও আইপিএইচ থেকে প্রাপ্ত ল্যাব রিপোর্টে এখন পর্যন্ত ৮ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই ৮ জনের মধ্যে ৬ জন নগরের এবং ২ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।
সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, নমুনা পরীক্ষার জন্য নতুন করে ১৬টি নমুনা পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ৬টি নগর থেকে এবং ১০টি উপজেলা থেকে সংগৃহীত। এ নিয়ে জেলায় ৯১টি নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
খুলনা
জানা গেছে, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ১০০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিভাগের সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে কুষ্টিয়ায়।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতাল মিলিয়ে ৫৯ জন শিশু বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে, যাদের বড় অংশই হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি। এছাড়া বাগেরহাটে ৪ জন, চুয়াডাঙ্গায় ২ জন, যশোরে ১৬ জন, ঝিনাইদহে ২ জন, খুলনায় ৫ জন, মাগুরা ৪ জন, নড়াইলে ২ জন, সাতক্ষীরায় ৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। মেহেরপুরে কোনো শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেই।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, খুলনা বিভাগের ১০ জেলা ১০০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সন্দেহজনক হামের রোগী ভর্তি হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।হামের চিকিৎসার জন্য বিশেষ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সিলেট
সিলেটে ক্রমশ বাড়ছে হাম রোগী। গত ২৬ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বিভাগের বিশেষায়িত শহীদ সামসুদ্দিন হাসপাতালে ৪৫ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৪ জন। বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। হাসপাতালে ভর্তিদের মধ্যে ২ জন ২০-২২ বয়সের। অন্যরা শিশু।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৪ জন রোগীকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ জনের পারিপার্শ্বিক জটিলতা থাকায় তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, হামের জন্য সামসুদ্দিন হাসপাতালে আইসোলেশন কর্নার করা হয়েছে। যত রোগী আসেন, সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৫ জন এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আরও ১২ জনসহ মোট ১৭ জন রোগী সামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারা হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালের অন্য রোগীরা বিভাগের অন্যান্য জেলার বলেও জানান তিনি।
বরিশাল
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ১৬ শিশু ভর্তি হয়েছেন। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আজ হামে আক্রান্ত ৩৭ জন রোগী এ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। চলতি বছর এ নিয়ে হাসপাতালটিতে ১১১ জন রোগী হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
শেবাচিম হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিকাশ চন্দ্র নাগ বলেন, আমাদের হাসপাতালে হামের যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে। পৃথক তিনটি আইসোলেশন কক্ষে সার্বক্ষণিক হামের চিকিৎসা হচ্ছে। সেখানে ঔষধ ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ রয়েছে।
তিনি বলেন, কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে হাম খুব দ্রুতই জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, চোখের ইনফেকশন, মস্তিষ্কে প্রদাহ দ্রুত অবনতির দিকে যায়। আর তখনই হাইফ্লো অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। হাইফ্লো অক্সিজেনেও যথাযথ ব্যবস্থা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রাজশাহী
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।
রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৮০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত ‘হাম কর্নার’ ও সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহিদা ইয়াসমিন জানান, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশেরই বয়স ৬ মাসের নিচে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণত ৯ মাস বয়সে শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয় কিন্তু তার আগেই বিপুলসংখ্যক শিশু আক্রান্ত হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।