সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বিরুদ্ধে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে এসে উল্টো অভিযুক্তের সঙ্গেই ভিআইপি রেস্তোরাঁয় ভোজে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, তদন্তে এসে তিনি অভিযোগকারীকে না শুনেই পিআইও আবুল কালাম আজাদকে সঙ্গে নিয়ে নিজের পছন্দমতো একটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন। পরে রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি ও বাঘাবাড়ি নৌবন্দর ঘুরে দেখেন এবং সেখান থেকে চলে যান। এ সময় তার বিরুদ্ধে উপঢৌকন নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী, শাহজাদপুর উপজেলার দারিয়ারপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মোতাহার হোসেন। তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা তার সঙ্গে কোনো কথা না বলেই অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দামী রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া করে চলে গেছেন।
এর আগে, পিআইও আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে প্রকল্পের কাজ না করেই প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে গত বছরের ১১ আগস্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন মোতাহার হোসেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে নদীভাঙন কবলিতদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ৪৬ লাখ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দ ১৫০ মেট্রিক টন গম, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির মোট বরাদ্দের ২০ শতাংশ রিজার্ভ বাবদ ১ কোটি ২৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা এবং কাবিখা কর্মসূচির ২০ শতাংশ রিজার্ভসহ মোট প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) এ অভিযোগ তদন্তে শাহজাদপুরে আসেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. আব্দুর রশিদ।
মোতাহার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তদন্তে এসে আমাকে ডাকা হয়নি। পরে অন্যভাবে বিষয়টি জেনে তার নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দিলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ থাকলে এক সপ্তাহ পরে ঢাকায় যেতে।’ পরে জানতে পারি, তিনি পিপিডি রেস্তোরাঁয় পিআইওর সঙ্গে খাচ্ছেন।
সেখানে গিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ থাকলে লিখিত আকারে পাঠান।’
মোতাহার আরও তাকে বলেন, আমি আগেই লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তারপরও তিনি শুধু একটি প্রকল্প দেখে চলে গেলেন। আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাকেই সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তদন্তকারী কর্মকর্তা পিআইওকে সঙ্গে নিয়ে একটি মাত্র প্রকল্প পরিদর্শন করেন। পরে বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পিপিডি মোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে দুপুরের খাবার খান। এরপর রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি ও বাঘাবাড়ি নৌবন্দর ঘুরে দেখেন।
অভিযোগ রয়েছে, পিআইও অফিসের স্টাফ আলতাফ হোসেনের কাছ থেকে উপহার সামগ্রী নিয়ে তিনি এলাকা ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিআইও অফিসের স্টাফ মো. আলতাফ হোসেন বলেন, আমরা এমনিতেই বিপদে আছি, এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।
অন্যদিকে, স্থানীয় সাংবাদিকরা যোগাযোগের চেষ্টা করলে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. আব্দুর রশিদ কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পরে সন্ধ্যায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ফোনে কিছু বলব না, আপনি ঢাকায় আসুন। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।