ঢাকার ‘হারানো প্রতিভা’ খুঁজবেন নতুন নির্বাচক নাদিফ

ঢাকার ‘হারানো প্রতিভা’ খুঁজবেন নতুন নির্বাচক নাদিফ

একসময় জাতীয় দলের পাইপলাইনে ঢাকা বিভাগের ক্রিকেটারদের ছিল দাপুটে উপস্থিতি। জাতীয় দলের বড় একটি অংশই উঠে আসত এই অঞ্চল থেকে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই দৃশ্যপট এখন অনেকটাই ফিকে। ঢাকা বিভাগ থেকে মানসম্পন্ন ক্রিকেটার উঠে আসার প্রবণতা কমেছে চোখে পড়ার মতো।মাঝেমধ্যে দু-একজন সুযোগ পেলেও জাতীয় দলে নিজেদের জায়গা পাকা করতে পারছেন না বেশিরভাগই।

এই বাস্তবতা বদলাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ প্রথমবারের মতো নির্বাচক প্যানেলে সুযোগ পাওয়া নাদিফ চৌধুরী। তার লক্ষ্য জাতীয় দলের পাইপলাইনে ঢাকা বিভাগ থেকে নতুন প্রতিভার মজুদ করা। খেলোয়াড় হিসেবে ঢাকার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।তাই এখানকার ক্রিকেট কাঠামো, সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে তার রয়েছে গভীর ধারণা। সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়ে ঢাকা বিভাগের ক্রিকেটে নতুন প্রাণ ফেরাতে চান তিনি।

জাতীয় নির্বাচক প্যানেলে সুযোগ পাওয়ার আগে নাদিফ বয়সভিত্তিক দলে নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা পুঁজি করেই তিনি নতুন দায়িত্বে সফল হতে চাইছেন।

বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপকালে নাদিফ বলেন, ‘নির্বাচক হওয়ার লক্ষ্য আগেই ছিল। যেখানে এসেছি, এখানেই আসতে চেয়েছিলাম। তবে এত তাড়াতাড়িই সুযোগ পাব, সেটা ভাবিনি। বয়সভিত্তিক লেভেলে কাজ করেছি। কাজ করতে করতে আমি বুঝতে পেরেছি, এই কাজটা আমি নিষ্ঠা ও ডেডিকেশন দিয়ে করতে পারব।’

প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে এবার নির্বাচকদের ওপর নির্দিষ্ট অঞ্চলের দায়িত্ব অর্পণ করেছে বিসিবি। জাতীয় দল নির্বাচনের পাশাপাশি তারা নিজ নিজ জোনের ক্রিকেটের খোঁজখবর রাখবেন। বাকি নির্বাচকদের মতো নাদিফ চৌধুরী পেয়েছেন ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্ব। 

বিসিবির নেওয়া নতুন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নাদিফ বলেন, ‘আমি তো এই জোনেই সারাজীবন খেলেছি। ঢাকা বিভাগের ক্রিকেট আমার চেনা-জানা। এটি আমার কাছে খুব ভালো উদ্যোগ মনে হয়েছে। আলাদা করে একটি জোনে ফোকাস করলে আরও গভীরভাবে কাজ করা যাবে। সহজেই জানা যাবে, কোন খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করতে হবে, কোথায় নজর দিতে হবে।’

নাদিফের লক্ষ্য ‘ঢাকার হারানো প্রতিভা’  খুঁজে বের করা, ‘একসময় জাতীয় দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই আসত ঢাকা থেকে, বড় বড় নামও এখান থেকেই উঠে এসেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারাটা আর আগের মতো নেই। তাই পরিকল্পনা আছে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে দেখা, খোঁজ নেওয়া। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত লিগগুলো শুরু হওয়া এবং ধারাবাহিকভাবে চলা। কারণ খেলাই হচ্ছে সেই জায়গা, যেখানে প্রতিভা চোখে পড়ে।’

তবে নাদিফ মনে করেন, বিভাগীয় পর্যায়ে আলাদা নির্বাচক থাকলে প্রতিভা খুঁজে বের করার প্রক্রিয়াটা আরও ভালো হবে, ‘সব জায়গায় গিয়ে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে দেখা সম্ভব নয়। যারা খেলবে, তাদেরকে ভালোভাবে চিনে নিয়ে সিলেকশন করা গুরুত্বপূর্ণ। ডিভিশন পর্যায়ে নজর রাখলে পরে জাতীয় দলে যোগ্য প্রতিভা বের করা সহজ হবে।’

নির্বাচন একটি ধারাবাহিক প্রসেস। পারফরম্যান্সের বিচারেই ক্রিকেটাররা মূল স্কোয়াডে জায়গা পান। তবে পারফরম্যান্সের সঙ্গে মানসিক দৃঢ়তাও গুরুত্বপূর্ণ। নাদিফ বলেন, ‘অন্য দেশগুলো দেখুন, তারা কোথায় পৌঁছেছে; খেলোয়াড়দের মেন্টালিটি ও মানসিক দৃঢ়তা অনেক বেশি গুরুত্ব পায়। একজন কীভাবে খেলে, কতদূর পর্যন্ত মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে পারে এগুলো আমাদের নজরে থাকবে। ক্রিকেট শুধু ফিজিক্যাল নয়, এটা অনেকটাই মেন্টাল গেমও।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS