রাজধানীর অন্যতম পরিকল্পিত ও অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা। সাজানো-গোছানো এই আবাসিক এলাকার সুযোগ-সুবিধা অনেকটা উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর আবাসিক এলাকার মতো।এখানে দেশের গণ্যমান্য অনেক ব্যক্তিই পরিবার নিয়ে বছরের পর বছর বসবাস করছেন।
এদের মধ্যে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা, শীর্ষ পর্যায়ের চিকিৎসক, শীর্ষ করপোরেট ব্যক্তিত্ব, ধনী ব্যবসায়ী, সাহিত্যিক, সমাজসেবক, আইনজীবী থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষ স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও আছেন।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সুপরিকল্পিত অবকাঠামো ও আধুনিকায়ন দেখে প্রশংসা করেছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমান। তখন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত অ্যাপোলো হাসপাতালে (বর্তমানে এভারকেয়ার) চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন তিনি।তার এক সুহৃদের কাছ থেকে এমন তথ্য জানা যায়।
সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ সংক্রান্ত ঘোষণার প্রেক্ষাপটে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্লট ও ফ্ল্যাট মালিকদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে।তাদের ধারণা, সিটি করপোরেশনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে গেলে নাগরিক সেবায় অবনতি, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বাড়তি আর্থিক চাপে পড়বেন এই এলাকার বাসিন্দারা।
এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যেসব বিশেষায়িত নাগরিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর অনেকটাই সিটি করপোরেশনের আওতায় গেলে বিঘ্নিত হতে পারে। এসব কারণে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনেকেই হয়তো আর এই এলাকায় থাকবেন না। নতুন করেও অনেকে এখানে বসবাসের জন্য আসতে চাইবেন না।
বাসিন্দাদের দাবি, বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নিজস্ব অর্থায়নে এলাকায় নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণসহ নানা ধরনের সেবা পরিচালনা করছে। ফলে এলাকাটি ঢাকার অন্যান্য আবাসিক এলাকার তুলনায় বেশি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সিটি করপোরেশনের আওতায় গেলে এসব সেবার মান কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
বাসিন্দাদের বড় উদ্বেগ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। বর্তমানে এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নিয়ন্ত্রণ, সিসিটিভি নজরদারি এবং নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী থাকায় অপরাধ প্রবণতা তুলনামূলক কম। কিন্তু সিটি করপোরেশনের সাধারণ প্রশাসনিক ব্যবস্থায় চলে গেলে এ নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং মাদক, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।
এছাড়া নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে দ্বৈত ব্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে। বাসিন্দারা বর্তমানে ওয়েলফেয়ার সোসাইটিকে সার্ভিস চার্জ দেন। এর পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স ও অন্যান্য চার্জ কার্যকর হলে তাদের আর্থিক চাপ বাড়বে। অনেক বাসিন্দা মনে করছেন, একই ধরনের সেবার জন্য দুই জায়গায় অর্থ প্রদান করতে হলে তা অযৌক্তিক হবে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢাকার অন্যান্য এলাকায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্য অপসারণে ধীরগতি, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও অনিয়মিত সেবার নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম নিয়ে। বিশেষ করে একটু বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় ঢাকা সিটির বিভিন্ন এলাকা। প্রায়ই দেখা যায়, হাঁটু সমান পানির মধ্যে রিকশা চালাতে গিয়ে যাত্রী ও চালক উভয়েই বিপদে পড়েন।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় কনক্রিটের রাস্তার কারণে দ্রুত বৃষ্টির পানি শোষণ করে নেয় মাটি। তাছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় দ্রুত বৃষ্টির পানি নেমে যায়।
এখানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাৎক্ষণিক সেবা দেওয়া হয়, বিশেষ করে বিদ্যুতের তার বিচ্ছিন্ন হওয়া বা এ সংক্রান্ত কোনো অসুবিধা দেখা দিলে দ্রুত মেরামত করে দেওয়ায় নির্ঝঞ্জাট জীবন যাপন করতে পারছেন এখানকার বাসিন্দারা।
সিটি করপোরেশনের মতো বড় প্রশাসনিক কাঠামোয় গেলে এ ধরনের সব সেবায় ধীরগতি নেমে আসার শঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাকে আগের মতো বিশেষায়িত ব্যবস্থাপনার আওতায় রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে হোল্ডিং ট্যাক্স ও সার্ভিস চার্জ সংক্রান্ত বিষয়েও পৃথক নীতিমালার দাবি উঠেছে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে সম্প্রতি বেশ আলোচনা দেখা যাচ্ছে। মূলত ২০১৮ সালে এলাকাটি ডিএনসিসির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার একটি আলোচনা ওঠে। এ কারণে এখানকার বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিকদের কাছ থেকে আগের সমুদয় হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
সম্প্রতি ডিএনসিসি বকেয়া ট্যাক্স আদায়ে নোটিশ দেওয়া শুরু করেছে বলে জানা যায়। তাছাড়া সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, রাজধানীতে আরও চারটি থানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এর মধ্যে বসুন্ধরা এলাকায় ভাটারা, বাড্ডা এবং খিলক্ষেতের অংশ ভেঙে ‘বসুন্ধরা’ নামে একটি থানা স্থাপন করা হবে।।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটিকে মাসিক সার্ভিস চার্জ বা উন্নয়ন ফি দিয়ে আসছেন। এই অর্থ দিয়ে এলাকায় নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য নাগরিক সেবা পরিচালিত হয়। ফলে একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনকে হোল্ডিং ট্যাক্স এবং ওয়েলফেয়ার সোসাইটিকে সার্ভিস চার্জ দিতে হলে তা ‘দ্বৈত ব্যয়’ হয়ে দাঁড়াবে বলে দাবি করছেন অনেক বাসিন্দা।
বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির দাবি, এলাকাটি পুরোপুরি সিটি করপোরেশনের কার্যকর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে না যাওয়া পর্যন্ত হোল্ডিং ট্যাক্স ও সার্ভিস চার্জ স্থগিত রাখা হোক।
বাংলাদেশে হোল্ডিং ট্যাক্স মূলত বাড়ি বা ভবনের ওপর স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষকে দেওয়া বার্ষিক কর। সাধারণভাবে সিটি করপোরেশন ভবনের আয়তন, ব্যবহার, অবস্থান ও বার্ষিক ভাড়ামূল্যের ভিত্তিতে এই কর নির্ধারণ করে থাকে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৭ সালে, দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের কর্ণধার আহমেদ আকবর সোবহানের হাত ধরে। দীর্ঘ এই পথপরিক্রমায় দেশের স্মার্ট ও গ্রিন সিটি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা। এটি দেশের যেকোনো আবাসিক এলাকার চেয়ে বসবাসের দিক থেকে নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত। আর এসব সেবা নিশ্চিত করেছে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। তাই সেবার দিক থেকে এগিয়ে থাকা এমন আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা চান এলাকাটি আগের মতোই থাকুক।
তারা বলছেন, বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্লট ও ফ্ল্যাট মালিকদের সব নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে এরই মধ্যে ওই সিটি করপোরেশন বরাবর সম্মিলিত সম্মতিপত্রে সই করে পাঠিয়েছেন।
সম্মতিপত্রের আলোকে বিষয়টি যাতে সদয় বিবেচনা করা হয়, সেজন্য বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ও মহাসচিব ক্যাপ্টেন (অব.) শেখ এহসান রেজা যৌথভাবে সই করে বসুন্ধরার আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষে গত ৬ মে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছেন।
তাদের দেওয়া চিঠিতে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়টির ওপর। তারা বলছেন, সিটি করপোরেশনের আওতায় গেলে প্রথমেই এখানকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে যে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, সেটি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এতে বহিরাগত সন্ত্রাসী, হকার, চাঁদাবাজ ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়তে পারে।
জানা গেছে, বর্তমানে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রতিটি প্রবেশপথে নিজস্ব প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মীরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি রয়েছে বিপুলসংখ্যক ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার নজরদারি। এই কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণেই অপরাধীরা সহজে এলাকায় প্রবেশ করতে পারে না।
এই এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল আলম ডালিম বাংলানিউজকে বলেন, ‘এখানে দিনে কিংবা রাতে সব সময়ই চলতে ফিরতে খুবই নিরাপদ বোধ করি। সেবার মান খুবই আধুনিক। এমন নিরাপত্তাবেষ্টনী ঘেরা আবাসিক এলাকা বাংলাদেশে আর কোথাও নেই। এই এলাকায় থাকাটা বন্ধুবান্ধব মহলে অনেকটা মর্যাদা বাড়ায়। এটিকে সিটি করপোরেশনের মধ্যে নিয়ে এলে এই সুযোগ-সুবিধা থাকবে কি না তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।’
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এখানে সব আধুনিক সেবা বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের লোকবল কম। তারা এখানকার সেবার মান ধরে রাখতে পারবে না। বরং সেবার মান আরও নিচে নেমে যাবে। অপরাধ বেড়ে যাবে।’
এমন আরও কয়েকজন বাসিন্দা বাংলানিউজকে জানান, আবাসিক এলাকাটি যত্রতত্র চায়ের স্টল, হকার ও দোকানপাটমুক্ত। পরিচ্ছন্ন ও কোলাহলমুক্ত। কঠিন নিরাপত্তা বলয়ের কারণে এখানে সন্ত্রাসী কিংবা মাদকসেবীরা আসতে পারে না। আর এর ব্যতিক্রম হলে এখানে মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে যাবে। ঢাকার ধানমন্ডি, কলাবাগান, মিরপুর, পুরান ঢাকা—সবখানেই এখন মাদক ও ছিনতাইয়ের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে দেওয়া বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চিঠিতে বলা হয়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন বিশেষ করে রাস্তাঘাট নির্মাণ ও মেরামত, ফুটপাত রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রেন পরিষ্কার রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কে বাতি স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, পানি সরবরাহ, সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, মশা নিধন, বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন ও তারের সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণসহ সামগ্রিক কাজ বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কোনো আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করে না বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।
শুধু তা-ই নয়; এই সোসাইটির ব্যবস্থাপনায় আবাসিক প্রকল্পটির সব উন্নয়নকাজ সম্ভাব্য ২০৩৪ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার অনুমতিও নিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এখানকার আবাসিক বাসিন্দা এবং সব প্লট ও ফ্ল্যাট মালিকরা সিটি করপোরেশনের আওতাধীন না যাওয়ার অভিপ্রায় জানিয়ে এর আগেও সিটি করপোরেশনে সম্মিলিতভাবে চিঠি দিয়েছিল। ওই চিঠির স্মারক নং- রাজউক/বওসো/২০২৬/০১-এর আলোকে বিষয়টি অবগত করে রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর পত্র দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এর অনুলিপি ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসককেও দেওয়া হয়েছে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এলাকাটি শুধু সেবার মানের দিক থেকেই নয়; এখানে দেশসেরা হাসপাতাল, বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্বমানের স্পোর্টস সিটি, গলফ ক্লাব, শপিং মল, রেস্টুরেন্ট, বেশ কয়েকটি সুপারশপ, কমিউনিটি পার্কসহ উন্নত নাগরিক সেবার সব উপাদানই রয়েছে।
এখানে যে ক’টি দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীও এখানে নিরাপদে বসবাস করেন, শান্তিতে ঘুরে বেড়ান, বসবাসের দিক থেকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি আশা করে, ওই প্রকল্পটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সব ধরনের হোল্ডিং ট্যাক্স ও সার্ভিস চার্জ স্থগিত করবে এবং তা থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত সব প্লট ও ফ্ল্যাট মালিক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি প্রদান করবে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে নেওয়ার যে তোড়জোড় চলছে, সে বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি।
সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘নাগরিক জীবনের নিরাপত্তাহীনতা বোধ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আসার পর আমার কখনো হয়নি। ধানমন্ডিতে নিজ বাড়িতে ৩০ বছর থেকেছি। এখন আমি বসুন্ধরাতে স্থানান্তর হলাম। এখানে একটা বাড়ি করেছি। ধানমন্ডির আদিবাসিন্দা কিংবা পুরানা পল্টনের আদিবাসিন্দা হিসেবে এই শহরকে আমার কাছে মাঝেমধ্যেই খুব অচেনা মনে হতো। যেদিন গণ্ডগোল হতো ঢাকা কলেজে কিংবা পুরানা পল্টন, প্রেস ক্লাব—এই সমস্ত এলাকাতে আমি আমার ঘর থেকে কখনো বের হতে সাহস পাইনি। কিংবা সন্ধ্যার পরে যখন আমি বের হতাম, তখন ঘড়িটা নিতাম না, মানি ব্যাগটা নিতাম না, যতটুকু টাকা দরকার ততটুকু নিতাম, এমনকি মোবাইলটা পর্যন্ত নিতাম না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই শহর আমার পরিচিতি থাকার পরেও নিরাপত্তাহীনতা সেই পর্যায়ে ছিল। কিন্তু বসুন্ধরার যে অভ্যন্তরীণ পরিবেশ আমি গত ছয় মাস যাবৎ দেখছি—এখানে যারা থাকছেন, তাদের কারও মধ্যে এই নিরাপত্তাহীনতার কোনো অভিযোগ নেই। এখানে আমার বিল্ডিং হচ্ছে চার বছর ধরে। এই চার বছর কনস্ট্রাকশনের সময় এমন কোনো ঘটনা শুনিনি যে ঘটনার জন্য পুলিশের সাহায্য দরকার হতে পারে বা পুলিশের মধ্যস্থতা দরকার হতে পারে।’
গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসনকে ব্যবহার করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার চলমান ভালো দিকগুলো তছনছ করে দিয়ে এটির অবস্থা কলাবাগান, ঝিগাতলা, ধানমন্ডি, গুলশানের মতো হবে না তার কী প্রমাণ আছে?’
তিনি বলেন, ‘আমরা যারা এখানকার বাসিন্দা রয়েছি, তুলনামূলকভাবে আমরা এই মুহূর্তে বেশি নিরাপদ বোধ করছি। আমরা এ দেশের নাগরিক, এখানে কয়েক লাখ লোক বসবাস করে, সবাই সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি। অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং এদের হাতে অর্থনীতির অনেক চালিকাশক্তি রয়েছে। কাজেই এদের একটা নিরাপদ জীবন, সুখি জীবনের ওপরে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি নির্ভর করে। সরকার রাজস্ব আয় করতে চায়, সরকার এখানে অংশগ্রহণ করতে চায়, সেটা হতে পারে বিধিমোতাবেক।’
গোলাম মাওলা রনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই বসুন্ধরার মধ্যে যে সিস্টেম, এত সুন্দর সিস্টেম কোনো ক্যান্টনমেন্টের মধ্যেও নেই। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে এতটা সুশৃঙ্খল নিয়ম-কানুন নেই। এখানে কোনো গাড়ি দুর্ঘটনা হয় না। এখানে কোনো ট্রাফিক দরকার হয় না। কোনো কিছু দরকার হয় না। এত বিশাল এলাকা। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে, সেখানে সারাক্ষণ সেই সিসি ক্যামেরা দিয়ে—মানে সেই মিলিটারি পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে এবং অনেক সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদেরও সেই মিলিটারি পুলিশ জরিমানা করে। কিন্তু বসুন্ধরায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ফলে এই সিস্টেমটা যেন ধ্বংস না হয়।’
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘বসুন্ধরার বাইরে গিয়ে বাড্ডা রোডে দেখেন, বসুন্ধরার বাইরে গিয়ে সেই মাদানী অ্যাভিনিউ দেখেন, বসুন্ধরার বাইরে গিয়ে যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে শুরু করে বাড্ডা লিংক রোড রয়েছে, সেখানে গিয়ে দেখেন কী হচ্ছে—একটা সেকেন্ড আপনি ফুটপাতে হাঁটতে পারবেন না। সেখান থেকে আপনি যখন বসুন্ধরার মধ্যে ঢুকবেন, ইটস এ নিউ থিং। এটার সঙ্গে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোন ছাড়া অন্য কোনো এলাকার তুলনা করা চলে না।’