আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের টিকেট মূল্য ও বিক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে চাপে পড়েছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এফএসএ), সঙ্গে রয়েছে ইউরোকনজিউমার্স।
অভিযোগে বলা হয়েছে, টিকেটের মূল্য নির্ধারণ ও বিক্রয় পদ্ধতিতে ফিফা তাদের একচেটিয়া অবস্থানকে কাজে লাগিয়েছে। বিশেষ করে উচ্চমূল্য, অস্বচ্ছতা এবং ইউরোপীয় সমর্থকদের জন্য জটিল শর্ত আরোপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনগুলো।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় যৌথ আয়োজনে শুরু হবে ২০২৬ বিশ্বকাপ। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই আসর চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত।
এবার অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোকে নিজ নিজ ম্যাচের মোট টিকেটের আট শতাংশ বরাদ্দ দেয় ফিফা, যাতে তারা সমর্থকদের মধ্যে বিক্রি করতে পারে। তবে এসব টিকেটের মূল্য অনেক ক্ষেত্রে ফিফা ঘোষিত মূল্যের চেয়েও বেশি হওয়ায় শুরু হয় সমালোচনা।
এ নিয়ে সমর্থক সংগঠনগুলো ফিফার বিরুদ্ধে ‘ধোঁকাবাজি’র অভিযোগ তোলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ডিসেম্বরে কিছু টিকেটের মূল্য কমিয়ে ৬০ ডলার নির্ধারণ করে ফিফা।
তবে বিতর্ক থামেনি। এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো চালু করা হয়েছে ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ ব্যবস্থা, যার ফলে চাহিদা অনুযায়ী টিকেটের দাম ওঠানামা করবে।
আগেও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল।
টিকেটের উচ্চমূল্য ও বিক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান সমালোচনার মধ্যেই এবার আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে এফএসএ ও ইউরোকনজিউমার্স জানিয়েছে, ফিফা তার একক ক্ষমতার অপব্যবহার করে সমর্থকদের জন্য অন্যায্য শর্ত তৈরি করেছে।
আগামী এপ্রিলে টিকেট বিক্রির আরেকটি ধাপ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে টিকেটের মূল্য স্থিতিশীল রাখার দাবিও জানিয়েছে সমর্থক সংগঠনগুলো।