বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ওপর সরকারি বা বাহ্যিক হস্তক্ষেপের ইস্যু নিয়ে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। একদিকে বিসিবি আইসিসির সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, অন্যদিকে সাবেক কর্মকর্তারা বোর্ডের ওপর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) তদারকিকে বাধ্যতামূলক বলে দাবি করছেন।
সম্প্রতি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিসিবির নির্বাচনী প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের গেজেট প্রকাশ করেছে। একে ‘বাহ্যিক হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখছে বিসিবি।এক বিবৃতিতে বোর্ড জানিয়েছে, এ বিষয়ে আইসিসি’র সঙ্গে তাদের অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। বিসিবির আশঙ্কা, এমন তদন্ত বোর্ডের স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা এবং ধারাবাহিকতা নষ্ট করতে পারে।
বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, বর্তমান প্রশাসন সম্পূর্ণ নির্বাচিত এবং তারা সংবিধান মেনেই কাজ করছে। নির্বাচিত বোর্ডের ওপর এমন কোনো পদক্ষেপ যদি আইসিসির গভর্ন্যান্স ও কমপ্লায়েন্স নীতিমালার পরিপন্থী হয়, তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বড় ধরনের পর্যালোচনার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
বিসিবির এই অবস্থানের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন সাবেক বিসিবি সচিব সৈয়দ আশরাফুল হক। তার মতে, বিসিবি যেহেতু জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনস্থ একটি সংস্থা, তাই সরকারের তদারকি মেনে চলা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক। বিসিবির আইসিসি-নির্ভরতার সমালোচনা করে তিনি সোজাসাপ্টা ভাষায় বলেন, ‘আইসিসি আমাদের অভিভাবক নয়।’
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রমাণিত হলে সেই দেশের সদস্যপদ স্থগিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এনএসসির এই তদন্ত কমিটিকে বিসিবি সেই ‘হস্তক্ষেপ’ হিসেবেই দেখছে, যেখানে সাবেক সচিব মনে করেন এটি নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকির অংশ মাত্র।
তথ্যসূত্র- এনডিটিভি