দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড চিরকুট। এর প্রতিষ্ঠাতা শারমীন সুলতানা সুমী নিজের দীর্ঘ পথচলা, সংগ্রাম ও অনুভূতির কথা তুলে ধরে আবেগঘন একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সেটি সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
ছোট শহর থেকে উঠে এসে দুই দশকের বেশি সময় ধরে সংগীত ও সৃজনশীলতার জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করা এই শিল্পী সেই পোস্টে ফিরে দেখেছেন জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, লড়াই এবং মানুষের ভালোবাসার কথা।
ওই পোস্টে নিজের শিকড়ের কথাও তুলে ধরেন শারমীন সুলতানা সুমী। তিনি লেখেন, খুলনার খালিশপুরের মেয়ে তিনি। ঝিনাইদহের শৈলকূপার প্রয়াত মকবুল হোসেন ও শেলী মকবুলের চতুর্থ কন্যা।
প্রায় ২৪ বছর ধরে ব্যান্ডসংগীতের সঙ্গে এবং প্রায় ১৯ বছর ধরে বিজ্ঞাপনশিল্পে অসংখ্য ব্র্যান্ডের ক্রিয়েটিভ ও কৌশলগত কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টে সুমী লেখেন, ছোট শহর থেকে উঠে এসে থেমে না গিয়ে কাজ করে যাওয়াটাই ছিল তার পথচলার প্রধান শক্তি। এ দেশের ধুলামাটির গল্পকে বড় করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি এবং অসংখ্য মানুষের সাহস হয়ে উঠতে পেরেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
প্রতিকূলতার মধ্যেও ভালোবাসা, হাসি আর মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন সব সময়। পোস্টের এক পর্যায়ে তিনি লেখেন, ভুল করলে ক্ষমা চেয়েছেন, কাউকে কষ্ট দিলে ‘সরি’ বলতে দেরি করেননি- তবে মাথা উঁচু করে পথচলা থামাননি।
নারী হিসেবে আলাদা পরিচয়ের চেয়ে মানুষ হিসেবেই কাজ করে যেতে চেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নিজের দর্শন, কথা ও সুরে অসংখ্য গানপ্রেমীর হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন।
সুমীর কথায়, তিনি কখনো একা বড় হতে চাননি; বরং সবার মুখে হাসি ফুটিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়াকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। পথে অপবাদ এসেছে, অভিযোগও উঠেছে- তবু তিনি হাল ছাড়েননি।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, জীবন ছোট এবং পৃথিবীর পথ দ্রুত বদলে যাচ্ছে।তাই হতাশার মধ্যেও ভালো থাকার উপকরণ খুঁজে নিতে হবে। কনসার্ট, স্টুডিও কিংবা বিজ্ঞাপনচিত্রের চিত্রনাট্য- যেখানেই থাকুন, কাজের মধ্য দিয়েই নতুন অধ্যায় তৈরি করে যেতে চান তিনি।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সব প্রতিকূলতা ও অবহেলা সহ্য করে মুখে হাসি রেখে কাজ করে যাওয়া নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা জানান এই শিল্পী। পাশাপাশি নিজেকেও একটু সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, এবার সময় এসেছে নিজের প্রতিও একটু সদয় হওয়ার।