ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে লাল সাগরে নিরাপত্তা জোরদার করতে দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। একই সঙ্গে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে জরুরি রিজার্ভ ব্যবহারের প্রস্তাবও দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ মিশন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নেভাল মিশন অ্যাসপাইডসের অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে দুইটি ফ্রিগেট পাঠানো হবে। এই মিশনের লক্ষ্য মূলত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে সুরক্ষা দেওয়া।
সাইপ্রাসে এক বৈঠকের পর ম্যাক্রোঁ বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ও এসকর্ট মিশন, যার উদ্দেশ্য জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইউরোপীয় ও অ-ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।বৈঠকে সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডোলিডেস এবং গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিস উপস্থিত ছিলেন। খবর আল জাজিরার।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে জি–৭ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক ডেকেছে ফ্রান্স।
ম্যাক্রোঁ বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তত্ত্বাবধানে সদস্য দেশগুলো তাদের জরুরি তেল রিজার্ভের একটি অংশ ব্যবহার করতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রয়োজনে সেই রিজার্ভের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ব্যবহার করা হতে পারে।
তার মতে, এই পদক্ষেপ নিলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জ্বালানির দাম যেভাবে বাড়ছে তা জার্মান অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় তিনি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন জানালেও দ্রুত এই সংঘাত শেষ হওয়ার আশা প্রকাশ করেন। তার মতে, এই যুদ্ধ ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাজ্যে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতির ঢেউ আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংঘাতের প্রভাবে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক এফটিএসই-১০০ প্রায় ২০০ পয়েন্ট বা প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে। একই সময়ে জার্মানির ডিএএক্স ইনডেক্স প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ পতন হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে ধরে নিয়ে বাজার ইতোমধ্যে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা হিসাব করতে শুরু করেছে।
এ অবস্থায় শিগগিরই সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। সুদের হার বাড়লে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়ির মালিক এবং সরকার; সব পক্ষের জন্য ঋণ নেওয়া আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও বড় চাপ তৈরি করতে পারে।