আগামী তিন মাসে সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে দুয়েকটি বন্ধ শ্রমবাজার চালু করা এবং কিছু কিছু দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয় নির্দিষ্ট করে দেওয়া বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, প্রথম তিন মাসে আমাদের প্রাধান্য হচ্ছে বন্ধ শ্রমবাজারের দুয়েকটা চালু করা। বিশেষ করে অভিবাসন ব্যয় কিছু কিছু দেশের ক্ষেত্রে নির্ধারণ করে দেওয়া।বিভিন্ন দেশের যে দূতাবাস আছে সেখানে লেবার উইং বাড়ানো নিয়ে ইতোমধ্যে আমাদের আলাপ-আলোচনা হয়েছে। কর্মসংস্থান যেহেতু সরকারের একটি অগ্রাধিকার সে ক্ষেত্রে আমাদের চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে যে আমাদের বর্তমানে কোন কোন দেশে কী ধরনের শ্রমবাজার আছে এটা ফাইন্ড আউট করা এবং লং টার্মের জন্য এটা নিয়ে একটা কাজ করা।
বিদেশে যাওয়ার নামে অনেক মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে, পাচার হচ্ছে এ ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে তিন হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স আছে। তারা অনেকেই আসলে সঠিকভাবে কাজ করছে না।অনেকে সাব-এজেন্সি দিয়ে কাজ করাচ্ছে। তারা ঠিকই মানুষের এক টাকার জায়গায় পাঁচ টাকা নিচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার হচ্ছে। যে সব এজেন্সি বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ থাকবে সেগুলো আমরা প্রয়োজনে স্থগিত করে দেব। তাদের কারণে কিন্তু শুধু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এমনটা না, বরং বাইরে আমাদের মার্কেটরও দুর্নাম হচ্ছে।
সুতরাং এই কর্মকাণ্ডে যারা যুক্ত হচ্ছে এবং যে সব এজেন্সি দায়সারাভাবে লোক পাঠাচ্ছে কিন্তু তাদের ফলোআপ করছে না, সেগুলোকে আমরা জবাবদিহির মধ্যে নিয়ে আসব।
বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, বাংলাদেশের বর্তমানে একটি সম্ভাবনাময় জায়গা হচ্ছে জাপান। যেখানে একটা আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়েছে যে, আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানো হবে। সে ক্ষেত্রে জাপানিজ ভাষা জানা লাগে। আমাদের দেশে যারা যাচ্ছে, তারা ভাষার ক্ষেত্রে একটু পিছিয়ে আছে।সে জন্য আমাদের মন্ত্রণালয় থেকেও ট্রেনিং হচ্ছে। আরও বেসরকারি যে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাষা শিক্ষাকে যেন সহজতর করা যায় এবং প্রয়োজনে আমরা আর্থিক সাপোর্ট দিতে পারি সেই চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, এক লাখ জনশক্তি যে লক্ষ্য রয়েছে, সেটাকে আমরা ১০ লাখে পরিণত করতে চাই। এখন কতটুকু পারব সেটা জানি না, তবে এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) সভাপতি পার্থ সারথি দাস ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রায়হান ও সদস্য শরিফ প্রমুখ।