মাত্র ১৮ মাস বয়স। ছোট ছোট পায়ে হেঁটে বেড়ানো, নরম-তুলতুলে দুই হাতে মাকে জড়িয়ে আদর করা আর বাবার সঙ্গে দুষ্টুমিতে মেতে থাকার কথা ছিল মুজাহিদের। কিন্তু ছোট্ট মুজাহিদ রাইয়ান নূরের জীবন শুরু হয়েছে হাসপাতালের করিডোর, অপারেশন থিয়েটার আর ক্যান্সারের চিকিৎসার মধ্য দিয়ে। জন্মের মাত্র দুই মাস পরই ধরা পড়ে তার চোখের ক্যান্সার- “রেটিনোব্লাস্টোমা”।
শিশুটির বাবা মো. শাহীনুর হক জয়, একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। চলার পথে অসংখ্য বাধা থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন তিনি। শুধুমাত্র প্রতিবন্ধিতার কারণে উচ্চশিক্ষা শেষ করেও এখনো স্থায়ী চাকরি পাননি। খুব সামান্য বেতনের একটি কাজ পেয়েছেন, যা দিয়ে নিজের চলার খরচও মেটানো কঠিন।অথচ নিজের ও একমাত্র সন্তানের জীবনের এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই সন্তানের কঠিন অসুখ তাকে দাঁড় করিয়েছে এক নির্মম বাস্তবতার সামনে।
জয় জানান, সন্তানের চোখে অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ক্যান্সার ধরা পড়ে। তখন থেকেই শুরু হয় চিকিৎসা। বর্তমানে উত্তরা বাংলাদেশ আই হসপিটালে (চোখের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ) অধ্যাপক ডা. শওকত আরা শাকুর মিলির তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে; নিয়মিত লেজার থেরাপি দেওয়া হচ্ছে।
সর্বশেষ চলতি মাসের প্রথম দিনে চিকিৎসা হয়েছে, আবার আগামী মাসের প্রথম দিনেও একই প্রক্রিয়া চলবে।
চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির ডান চোখ তুলনামূলক ভালো আছে, তবে অন্য চোখটি গুরুতরভাবে আক্রান্ত। এখনো ক্যান্সার শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি- এটাই পরিবারের সবচেয়ে বড় স্বস্তি।
প্রতি মাসে চিকিৎসা খরচ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা
শিশুটির চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। প্রতি মাসে অপারেশন, পরীক্ষা, ওষুধ ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়।একেকবার চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় শুধু অপারেশন-সংক্রান্ত ব্যয়ই প্রায় ১৫ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে অন্তত ছয় ধাপ চিকিৎসা লাগতে পারে; তবে ক্যান্সারের প্রকৃতি অনুযায়ী সময় বাড়তেও পারে।
জয় বলেন, বন্ধুদের সহযোগিতায় এতদিন চিকিৎসা চালাতে পেরেছি। কিন্তু এখন সেই সহায়তাও শেষ। কীভাবে সামনে চিকিৎসা চালাব, বুঝতে পারছি না।
চাকরি নেই, তবু লড়াই থামেনি
উচ্চশিক্ষিত হলেও এখনো চাকরি পাননি জয়। তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ পাননি; বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। বর্তমানে ঢাকার মিরপুর এলাকায় জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে একা থাকেন তিনি, আর পরিবারের বাকি সদস্যরা থাকেন মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে। প্রয়োজন হলে শিশুটিকে তার মা মনিকা আক্তার শিমু ঢাকায় এনে চিকিৎসা করান।
এক বাবার আশা
সব প্রতিকূলতার মধ্যেও আশা ছাড়েননি জয়। চিকিৎসকের কথাই তাকে সাহস জোগায়, সময়ে চিকিৎসা চালাতে পারলে শিশুটি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মো. শাহীনুর হক জয় বলেন, “আমি শুধু চাই আমার ছেলেটা সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাক। নিয়মিত চিকিৎসা চালাতে পারলে ইনশাআল্লাহ সে ভালো হয়ে উঠবে, ডাক্তাররাও আমাকে সেই আশ্বাসই দিয়েছেন।”
সহায়তার প্রত্যাশা
পরিবারটির আর্থিক সামর্থ্য সীমিত। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সমাজের সহমর্মিতা ও সহায়তার ওপরই এখন নির্ভর করছে ছোট্ট মুজাহিদের জীবনযুদ্ধ। একটি শিশুর চোখে আলো ফিরিয়ে দেওয়া শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন নয়, এটি মানবতারও পরীক্ষা।
১৮ মাস বয়সী মুজাহিদ রাইয়ান নূরের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে সহযোগিতার ঠিকানা-
মো. শাহীনুর হক জয় (Md. Shahinur Haque Joy)
হিসাব নম্বর: ৫৫০৬১০১০১৩২৪৪
সোনালী ব্যাংক পিএলসি, চুড়াইন শাখা, ঢাকা।
বিকাশ, নগদ ও রকেট নম্বর: ০১৯১১২৪১০৯৮ (মুজাহিদের বাবার মোবাইল নম্বর এটি)।