ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ বিজয় ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় আগামীর নবগঠিত সরকারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনার ৫৫/১ সিদ্ধেশ্বরী রোডে ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি রেজাউল করীমের বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন। পরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ইসলামী আন্দোলনের আমির।
মুফতি রেজাউল করীম বলেন, বৈঠকটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, তারেক রহমান অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন, যা দেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করছি।
নির্বাচনে অনিয়ম বা ত্রুটি-বিচ্যুতির অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন, এ বাস্তবতাকে সামনে রেখে তারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চান।
ইসলামী আন্দোলনের আমির জানান, দেশ গঠনে সহযোগিতা চেয়ে তারেক রহমান আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার জনকল্যাণমূলক কাজ করলে তারা পাশে থাকবেন। তবে জনবিরোধী, দেশবিরোধী বা ইসলামবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে দল প্রতিবাদ জানাবে– এ ধরনের অবস্থানকে তারেক রহমান স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলো স্বাধীনভাবে রাজনীতি করবে। তবে প্রতিবাদ করার আগে, আন্দোলন করার আগে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।
মুফতি রেজাউল করীম বলেন, প্রতিবাদ বা আন্দোলনের আগে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দেশে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করা হবে।
নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সহিংসতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আশ্বাস দিয়েছে। প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করে সবার জন্য উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, মতভেদ থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদসহ দলের অন্য নেতারা।