আকবর আলী সাজঘরের পথে পা রাখতেই প্রেসবক্স প্রান্তের গ্যালারিতে হঠাৎই ফেটে পড়ে উচ্ছ্বাস। সেখানে বসে থাকা একদল ক্ষুদে ভক্ত আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। কারণটা আর কিছু নয়—তাদের প্রিয় ক্রিকেটার রিশাদের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে পরাস্ত হয়েছেন যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক।
এই ক্ষুদে দর্শকরা সবাই সিটি ক্লাবে নিয়মিত ক্রিকেট শেখে।
তাদের মধ্যেই নাঈম নামের একজন রিশাদের মতোই লেগ স্পিনার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। চোখেমুখে উচ্ছ্বাস আর কণ্ঠে গর্বের ঝিলিক নিয়ে তিনি বললেন, ‘রিশাদ ভাই এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা লেগ স্পিনার। আমি একদিন তার মতোই লেগ স্পিনার হতে চাই।’
রিশাদের ছন্দময় বোলিং শুধু প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানকেই নয়, গ্যালারির এই স্বপ্নবাজ কিশোরদের মনও জয় করে নিয়েছে।যেখানে ক্রিকেট কেবল খেলা নয়, ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনে নেওয়ার এক উপলক্ষ্যও।
নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারত সফর বাতিল হওয়ায় বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ক্রিকেটারদের ম্যাচের ছন্দে রাখতে ভিন্ন পথ বেছে নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তিন দলের অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ নামে টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ায়। প্রতিযোগিতার নামের মতোই এখানে লড়াইটা অদম্য, আর প্রতিটি দলই আলাদা পরিচয়ের প্রতিচ্ছবি।
লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন ধুমকেতু মূলত বিশ্বকাপ স্কোয়াডকে কেন্দ্র করে গড়া দল, আর সেই দলের জার্সিতেই মাঠে নামেন রিশাদ। অন্যদিকে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে দুর্বার—যেখানে টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অভিজ্ঞতার মিশেল। আর তৃতীয় দলটি আকবর আলীর নেতৃত্বে, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দুরন্ত একাদশ, নামের মতোই তরুণ আর দুর্ধর্ষ!
রিশাদ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ না খেলে বেছে নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর বিগ ব্যাশ। বেগুনি জার্সিতে পুরো আসরজুড়েই ছিলেন ছন্দময় ও ধারাবাহিক। আলো ছড়িয়ে থেমে থাকেননি সেখানেই, বিগ ব্যাশের সেই আত্মবিশ্বাস আর সাফল্যের রেশ নিয়ে তিনি হাজির হয়েছেন মিরপুরেও।
বৃহস্পতিবার আকবর আলীদের বিপক্ষে মাঠে নেমে রিশাদ দেখান নিজের ঘূর্ণিজাদু। তার বোলিংয়ের সামনে দুরন্ত একাদশ থেমে যায় ১৪৩ রানেই। আজিজুল হাকিম তামিম, আরিফুল ইসলাম ও অধিনায়ক আকবর আলীকে ফিরিয়ে দিয়ে একাই ভেঙে দেন দুরন্ত একাদশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড। রিশাদের এমন ইমপ্যাক্ট বোলিংয়েই মূলত ছন্দ হারায় আকবর আলীর দল, ম্যাচটা তাদের হাতছাড়া হয়ে যায় শুরুতেই!
রিশাদের এমন বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা চলছে লম্বা সময় ধরেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করার পথ ধরেই তিনি জায়গা করে নিয়েছেন বিগ ব্যাশের মতো প্রতিযোগিতায়। সাকিব আল হাসানের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন রিশাদ।
হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে নিজের প্রথম আসরেই ছিলেন চোখে পড়ার মতো। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই বল হাতে রেখেছেন প্রভাব। ফাইনালে না উঠলেও দলকে টপে নিয়ে যেতে বড় অবদান ছিল তার। ১২ ম্যাচে ১৫ উইকেট দলের হয়ে বিগ ব্যাশে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও ছিলেন রিশাদ।
সব মিলিয়ে বিগ ব্যাশ থেকে অদম্য কাপে, রিশাদের ঘূর্ণিতে বদলায়নি গল্পের সুর। বদলায়নি আত্মবিশ্বাসের রং। মাঠে নামলেই তিনি যেন জানান দেন, এই সময়টা তারই।