আইন তৈরি করা যত কঠিন, তা মানা আরও বেশি কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
নূরজাহান বেগম বলেন, আইন তৈরি যত কঠিন, তা মানা আরও কঠিন। এই আইন পাসের জন্য আজকের মধ্যেই একটি কমিটি গঠন করা হবে।
নতুন যে আইনগুলো হয়েছে, সেগুলো আরও কার্যকর করতে কী কী বিষয় সংযুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে আপনাদের মতামত প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, আপনারা যদি আগামী (বুধবার) মধ্যে লিখিত মতামত দেন, তাহলে কমিটির কাজ সহজ হবে এবং তারা সেখান থেকে প্রয়োজনীয় ইনপুট নিতে পারবেন। এ বিষয়ে আমি আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই, যাতে বিধিটি দ্রুত, এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রণয়ন করা যায়। অসম্ভবকে সম্ভব করাই আমাদের কাজ।আমাদের সময়ের মধ্যেই বিধি পাস করতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৫’ অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে। তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যা দৈনিক গড়ে ৫৪৫ জনেরও বেশি।
এ ছাড়া তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৯ দশমিক ২ হাজার কোটি টাকা।
অংশীজনরা একে দেশের জন্য একটি ‘নীরব তামাক মহামারি’ হিসেবে অভিহিত করেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফরসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।