ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রজেকশন বিডি, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি), জাগরণ ফাউন্ডেশন ও ন্যারেটিভের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক প্রাক-নির্বাচনী জনমত জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এতে ফলাফল তুলে ধরেন ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসির কর্মকর্তা শফিউল আলম শাহীন।
তিনি জানান, জরিপটি ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এতে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনের মোট ২২ হাজার ১৭৪ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশগ্রহণ করেন।
জরিপের ফল অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রতি জনসমর্থন ৩৪.৭ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ৩৩.৬ শতাংশ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতি ৭.১ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতি ৩.১ শতাংশ এবং অন্যান্য দলের প্রতি ৪.৫ শতাংশ সমর্থন রয়েছে।
সমর্থনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জরিপে অংশ নেওয়া বিএনপির সমর্থকদের ৭২.১ শতাংশ জানিয়েছেন, দলটির অতীত শাসন অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতাই তাদের প্রধান আস্থার জায়গা।অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা দলটিকে তুলনামূলকভাবে কম দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সততার ভাবমূর্তির কারণে সমর্থন করছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে।
এছাড়া নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে সমর্থনের পেছনে ৩৬.৭ শতাংশ ভোটার জুলাই বিপ্লবে দলটির ভূমিকাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জরিপে আরও দেখা যায়, প্রায় ১৭ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন। এদের মধ্যে ৩০.১ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশ্বাস করতে পারছেন না।
পাশাপাশি ৩৮.৬ শতাংশ ভোটার এ বিষয়ে কোনো মতামত দিতে চাননি। এই সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছেন গবেষকরা।
শফিউল আলম শাহীন বলেন, জরিপের ফলাফল থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, ভোটারদের একটি বড় অংশ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক মুশতাক খান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেসের ডিন এ কে এম ওয়ারেসুল করিম, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাশরুসহ বিভিন্ন বিশিষ্টজন।