নেদারল্যান্ডসের Withlocals নামীয় প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে একই নাম ও ডিজাইনে একটি ভুয়া ওয়েবপেজ তৈরি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিনিয়োগ প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো তৌহিদ ভূঁইয়া (২১) ও হৃদয় হাসান (২১)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে হৃদয় হাসান মামলার এজাহারভুক্ত ও তৌহিদ ভূঁইয়া তদন্তে প্রাপ্ত অভিযুক্ত।
মামলার এজাহারে জানা যায়, প্রতারক চক্র নিজেদের তৈরি করা ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক চক্রের অপরাপর সদস্যদের মাধ্যমে ভিকটিমদের কাছে পাঠিয়েছিল। নিজেদের বিদেশি কোম্পানির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দ্রুত লভ্যাংশ প্রদানের প্রতিশ্রুতিতে ভিকটিমদের নানা প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন অংকের অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করে। ভিকটিম প্রলুব্ধ হয়ে উক্ত ভুয়া প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ করে। এভাবে অন্তত একজন ভিকটিমের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে।ভিকটিম প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পল্টন থানার মামলা করেন।
মামলাটি তদন্তকালে সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগ উক্ত প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম শনাক্ত করে। তদন্তে জানা যায়, এজাহারভুক্ত অভিযুক্ত হৃদয় হাসান দীর্ঘদিন ধরে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ ব্যবহার করে বিদেশি কোম্পানিতে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করে আসছিলেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সিআইডি তৌহিদ ভূঁইয়াকে জামালপুর সদর থানাধীন স্টেশন রোড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিনে প্রতারণা চক্রের মূল হোতা হৃদয় হাসানকে (২১) একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হৃদয় হাসান এর কাছ থেকে জব্দকৃত স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে জানা যায়, তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা প্রায় ৩০টি ব্যাংক হিসাব নিয়ন্ত্রণ করতেন। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত দুটি বাইনান্স অ্যাকাউন্ট ভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা হলেও উক্ত অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে অভিযুক্ত হৃদয় হাসান মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত ছিল।
ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে আরও পাওয়া যায় যে, হৃদয়ের স্মার্টফোনে ১৫টি কিউআর কোড রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি একাধিক টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে লগইন করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। হৃদয় হাসান নিজেকে একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার দাবি করে ওয়েবপেজ ডেভেলপমেন্টের কাজ করার কথা বললেও বাস্তবে বিদেশি কোম্পানির ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগ প্রতারণায় লিপ্ত ছিল।গ্রেপ্তার দুই আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে।